০১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বরিশালে কোতয়ালী মডেল থানায় ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে কাল্পনিক মামলা!

বরিশালে কোতয়ালী মডেল থানায় কাল্পনিক সাজানো মামলায় এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যা নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে।

জানা যায়, বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতয়ালী মডেল থানায় ১লা মে বুধবার রাত আনুমানিক ৮টা ১৫মিনিটের সময় সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের চন্ডিপুর মোহাম্মাদ ছানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে একটি ঘটনা দেখিয়ে ১৫জনকে আসামী করে একটি মামলা এজাহার করেন কোতয়ালী থানা পুলিশ। ওই মামলায় স্বাক্ষী করা হয় জনৈক ৭জন ব্যক্তিকে। যার বাদী হয়েছেন চন্ডিপুরের শাহ কামালের স্ত্রী পারভীন বেগম (৪৫)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, মামলার ১নং স্বাক্ষী চন্ডিপুর গ্রামের শুক্কুর আলী হাওলাদারের ছেলে সুমন হাওলাদার ও ৭নং স্বাক্ষী ছালেহ সিকদারের ছেলে মুনসুর সিকদার। তারা দুইজন উক্ত মামলার ১নং আসামী আস্তাকাঠি গ্রামের মৃত. আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে ইউপি সদস্য মোঃ জাকির হোসেন তাহার হাতে থাকা রামদা দিয়ে ১নং স্বাক্ষীকে খুনের উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে কোপ দিলে উক্ত কোপ মাথার মাঝ বরাবর লাগিয়া মারাত্বক জখম হয়। এবং ২নং আসামী ১নং আসামীর ইউপি সদস্য জাকিররের আপন ভাই নওশাদ হোসেনের হাতে থাকা রামদা দিয়ে ৭নং স্বাক্ষীর মাথা লক্ষ করিয়া কোপ মারিলে উক্ত কোপ মাথার মাঝ বরাবর লাগিয়া মারাত্বক জখম হয়। এরপর তাদেরকে বরিশাল বগুড়া রোড ইডেন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয় মামলায় বর্ননায় করেন বাদী।

অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে, ইডেন ক্লিনিকের উপরোক্ত দুই নামে কোন রোগী ভর্তি কিংবা চিকিৎসা নেয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন ইডেন ক্লিনিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ সোহাগ। সেইসাথে মে মাসের ১ তারিখ থেকে ৫ তারিখের ইডেন ক্লিনিকের রোগী ভর্তি রেজিষ্ট্রারের ফটোকপি তুলে দেয় অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের হাতে। যা দেখে হতভাক হয় সাংবাদিকরাও!

অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে আসে, বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এক দিনের ছুটিতে গেলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা কোতয়ালী মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আমানউল্লাহ আল বারি ও এসআই রাহাতুল ইসলাম মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভিকটিম কোন মারাত্বক জখম এমনকি কোন হাসপাতালে ভর্তি না হয়েও পেনাল কোডের ৩২৬ ধারার মতো একটি মামলা এজাহার করতে বাদী পক্ষ সক্ষম হয়েছে বলে দাবী করেছেন স্থানীয় জনগন।

জাগুয়া ইউনিয়নের আস্থাকাঠি গ্রামের প্রায় শতাধিক জনগন এহেন জঘন্য মিথ্যা মামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সেই সাথে ৫ মে জাগুয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস মোঃ জাকির হোসেনকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে এসআই রাহাতুল ইসলাম। গ্রেফতারের পরে রাহাতুল মেম্বারের দুই হাত পিছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ লাগায়, সেইসাথে এসআই রাহাতুল ও তার ফোর্সের সামনে একাধিক মামলার আসামী জেবিক ফকির, কামরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজন মেম্বার জাকিরকে কিলঘুষি মারে, যাতে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেন। পরে তারা বরিশাল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ করতে এসে কার্যালয় বন্ধ থাকলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ফটকের সামনে ইন্সপেক্টর আমানুল্লাহ আল বারী ও এসআই রাহাতুলের দৃষ্টান্তমূলক শ্বাস্তির দাবী জানান।

ইউপি সদস্য জাকিরের স্ত্রী জানান, আমার স্বামী এই মিথ্যা মামলার জেল হাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পরেই এসআই রাহাতুল এবং জেবিক ফকির ও কামরুল সহ যারা আমার স্বামীকে বেআইনিভাবে কিলঘুষি মেরেছেন তাদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করিবো।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, আমরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের সাথে কথা বলে উক্ত সকল ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ জানিয়েছি। এবং তিনি উক্ত সকল ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে আমরা জাগুয়ার আস্থাকাঠিবাসী বরিশাল অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে বরিশাল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজীপি মহোদয় বরাবর স্মারকলীপি প্রদান করিবো।

উপরোক্ত সকল ঘটনার বিষয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ এটিএম আরিচুল হক জানিয়েছেন, আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করবো। যদি তদন্তে ইন্সপেক্টর আমানউল্লাহ আল বারী ও এসআই রাহাতুল এর দায়িত্ব অবহেলা এবং বাদীর মিথ্যা মামলা ও অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে আমি উপরোক্ত সকল বিষয়ই উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, আপনি ছারাও আমাকে একাধিক সাংবাদিক বিষয়টি অবহিত করেছেন।

ট্যাগস :

Add

আপলোডকারীর তথ্য

Barisal Sangbad

বরিশাল সংবাদের বার্তা কক্ষে আপনাকে স্বাগতম।
জনপ্রিয় সংবাদ