১০:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে খাবার সঙ্কটে বিলুপ্তির পথে মহিষ পালন

একটা সময় গ্রামবাংলায় বেশিভাগ বাড়িতে পারিবারিকভাবে মহিষ পালন দেখা যেত। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে গ্রামাঞ্চলের বিলের দিকে তাকালে দেখা যেত মহিষের পাল। দল বেঁধে খাওয়া আর বিলকে মাতিয়ে রাখাই ছিল মহিষের কাজ। গ্রামের মধ্যে যাদের বেশি পরিমাণে জমি থাকত তাদের মহিষও বেশি থাকত। মহিষের গোসত আর দুধের জন্য লালন-পালন করতো তখনকার কৃষকেরা। হালচাষের জন্য ছিল মহিষের আলাদা কদর। সময়ের বিবর্তনে এখন আর চোখেই পড়ে না মহিষ পালন। বর্ষা মৌসুমে হালচাষে নেই মহিষের উপস্থিতি। দুধ আর গোসতের জন্য বিখ্যাত হলেও এখন আর নেই এসবের বিরল বিচরণ, বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যের মহিষ পালন।

সরেজমিনে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে দেখা গেছে, হাতে গোনা কয়েকটি পরিবারে বাপ-দাদার পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রেখে মহিষ পালন করছে। একদিকে মহিষের খাদ্য সঙ্কট। অন্যদিকে, গ্রামগঞ্জের খাল দখল হয়ে যাওয়ায় পানি না থাকায় একেবারে হারিয়ে যেতে বসছে মহিষ পালন।

স্থানীয় এক মহিষ পালনকারী বলেন, ‘একটা সময় আমরা বিলে মহিষ ছেড়ে দিয়ে লালন-পালন করতাম। পুরো খালে বিলে পানি আর ঘাসে পরিপূর্ণ থাকতো। রোগ বালাই কম হতো। বিশেষ করে হালচাল করার প্রধান মাধ্যম ছিল মহিষ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা হাল চাষ করা যেত। তখনকার সময় পাওয়ার টিলার ছিলো না। হালচাষে খরচ কম লাগতো। মহিষ না থাকায় এখন আর মহিষ দিয়ে কেউ চাষাবাদ করেন না।

তিনি আরো বলেন, আমরা যারা মহিষ লালন-পালন করি এখন আমরা খুব কষ্টে আছি। খাবার, পানি, চিকিৎসা সব মিলিয়েই সঙ্কট। হয়ত কয়েক বছর পর কেউ মহিষ পালন করবে না

এ সময় আরো কথা হয় নীলগঞ্জ ইউনিয়নের দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা মো: জাকির হাওলাদারের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা সময় ৬০ থেকে ৭০টি মহিষ ছিলো। এ গ্রামে অনেকেই মহিষ পালন করতো। এখন আমাদের পরিবারে ২০টির মতো মহিষ আছে। খাবার ও পানির অভাবের কারণে মহিষ পালন করা যায় না। মহিষের খাবার কিনে খাওয়ানো সম্ভব নয়। প্রতিদিন ২ মণ খাবার ও ১ মণ পানির প্রয়োজন হয়। এখন আর মহিষ দিয়ে হাল চাষ হয় না।’

এছাড়াও একই এলাকার বাসিন্দা হানিফ শরীফ বলেন, ‘মহিষ পালনে লাভবান হওয়া যায়। একটা ১ বছর বয়সী মহিষের বাচ্চা ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি সম্ভব। প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ কেজি দুধ দোহন করা সম্ভব। একটা মহিষ জবাই করলে প্রায় ৬ মণ গোসত পাওয়া যায়, এসবের পরও কিন্তু খাবার, ওষুধ ও পানির সঙ্কটে অনেক কৃষক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।’

পশু চিকিৎসক আবু সাইদ জানান, ‘নীলগঞ্জ ইউনিয়নে হাতে গোনা তিন থেকে চারটা পরিবারে দেখা যায় মহিষ পালন। তবে খাদ্য ও চিকিৎসা ব্যবস্থা সহজলভ্য হলে আগ্রহ বাড়তো কৃষকদের।’

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড. মো: ফজলুল হক সরদার বলেন, ‘মহিষ পালন একেবারে কমে যাচ্ছে ধারণা ভুল। কলাপাড়া উপজেলায় দু’টি উৎপাদন গ্রুপ আছে। প্রত্যেক গ্রুপে ৪০ জন সদস্য আছে। কলাপাড়া উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার মহিষ আছে যা পারিবারিক খামারে বেড়ে উঠছে। তবে খাদ্য সঙ্কট আছে, আমরা মুজিব কিল্লায় এবং পরিত্যক্ত জঙ্গলে ঘাস উৎপাদন করা যায় কি না এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

ট্যাগস :

Add

আপলোডকারীর তথ্য

Barisal Sangbad

বরিশাল সংবাদের বার্তা কক্ষে আপনাকে স্বাগতম।