০১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দখল-পাল্টা দখলে নাজেহাল বরিশালের মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র

দখল-পাল্টা দখলে নাজেহাল বরিশালের সবচেয়ে বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি। গত ৩ মাসে কমপক্ষে ৩০ বার হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক শ্রমিক। কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় বলে অভিযোগ মৎস্য ব্যবসায়ীদের।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সিসি ক্যামেরার এক ফুটেজে দেখা যায়, বরিশাল নগরীর পোর্টরোড এলাকায় দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দিচ্ছে একদল যুবক।


অভিযোগ উঠেছে, বরিশালের সবচেয়ে বড় মাছের মোকাম পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি দখলে রাখতে নিয়মিতই দফায় দফায় এমন মহড়া চলে। বরিশাল মহানগর আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ সভাপতি খান হাবিবের অনুসারীরা, সাবেক সিটি মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুলের অনুসারীদের বেদম পিটিয়ে ঘাট দখলে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।


শ্রমিকদের একাংশ জানায়, সাবেক মেয়র সাদিক আব্দুল্লাহ বিদায়ের পর পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দখল নিয়ে মরিয়া হয়ে ওঠে খান হাবিব ও তার অনুসারীরা। গত ৩ মাসে কমপক্ষে অর্ধশত শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করে পুলিশি ব্যবস্থা না থাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
বিআইডব্লিউটিএ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের জন্য পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি ৪ কোটি ২১ লাখ টাকায় ইজারা নেয় নীরব হোসেন টুটুলের স্ত্রী ফারহাদ পারভিন রিংকু। ৭ মাসে ২ কোটি ৪১ লাখ ৯০ হাজার টাকা জমা দিলেও সেটাকে বাতিল করে চলতি বছর জানুয়ারি মাসের ২৩ তারিখ প্রতি মাসে আড়াই লাখ টাকা জমা দেয়ার শর্তে খান হাবিবকে ইজারা দেয় বিআইডব্লিউটিএ।

অভিযোগ,  নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে পোর্টরোড মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সিকদার ও সাধারণ সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুলকে বাদ দিয়ে সভাপতি খান হাবিব ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে শেখ জব্বার নতুন কমিটি ঘোষণা করেন। তবে এসব অভিযোগ মানতে নারাজ খান হাবিব।

পোর্টরোড মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সিকদার বলেন, পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নীরব হোসেন টুটুলের ইজারা নেয়া ছিল। খান হাবিব কীভাবে সেই ইজারা বাতিল করে নিজের নামে এনেছে সেটা তিনি ভালো জানেন। এছাড়া আমাদের বাদ দিয়ে নিজেই নতুন কমিটি করেছেন।

পোর্টরোড মৎস্য আড়তদার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খান হাবিব বলেন, আমি বা আমার কোনো লোকজন কোনো শ্রমিককে মারধর করেনি। যারা এসব অভিযোগ করছে তারা মিথ্যা কথা বলছে। বর্তমানে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি নিরিবিলি আছে। এটা অনেকে চায়না। আর ইজারা বিআইডব্লিউটিএর নিয়ম মেনে এনেছি কোথাও কোনো কারচুপি নেই।

বিআইডব্লিউটিএ বলছে, সঠিক সময়ে ইজারার টাকা জমা না দিতে পারায় ফারহাদ পারভিন রিংকুর ইজারা বাতিল করে নিয়ম মেনে খান হাবিবকে ঘাট ইজারা দিয়েছেন তারা। শ্রমিকদের মারধরের ঘটনায় তদন্ত চলছে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানায় পুলিশ।

বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, সঠিক সময়ে ইজারার টাকা জমা না দিতে পারায় ফারহাদ পারভিন রিংকুর ইজারা বাতিল করে নিয়ম মেনে খান হাবিবকে ঘাট ইজারা দেয়া হয়েছে। কোথাও কোনো কারচুপি নেই। সামনে নতুন করে ঘাট ইজারার টেন্ডার হবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ–পুলিশ কমিশনার মো. ফজলুল করিম বলেন, মারধরের ভিডিও ফুটেজ এরই মধ্যে আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। থানায় অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করে দেখছি। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুল একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নেয় পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের। টানা ৫ বছর পুরো ঘাট তার নিয়ন্ত্রণে থাকে। সাদিক বিদায়ের পর অবতরণ কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ নেন খান হাবিব। বর্তমানে অবতরণ কেন্দ্রের ১৭০টি আড়তে প্রতিদিন ১ কোটি টাকার উপরে মাছ বেচাবিক্রি হয়।
ট্যাগস :

Add

আপলোডকারীর তথ্য

Barisal Sangbad

বরিশাল সংবাদের বার্তা কক্ষে আপনাকে স্বাগতম।
জনপ্রিয় সংবাদ