বরিশাল বিভাগের সেরা ২০ কলেজ: ফলাফলে এগিয়ে যারা
- প্রকাশের সময়: 04:20:52 am, Thursday, 13 August 2026
- / 524 Time View
বরিশাল বিভাগের সেরা ২০ কলেজ: দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলে এগিয়ে যারা
বরিশাল সংবাদ এক্সক্লুসিভ: এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়—একাদশ শ্রেণিতে কোন কলেজে ভর্তি হওয়া ভালো? কোন কলেজের শিক্ষার পরিবেশ ও ফলাফল তুলনামূলক ভালো? কোথায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে?
এই সিদ্ধান্ত নিতে কলেজের সাম্প্রতিক ফলাফলের পাশাপাশি দীর্ঘ সময়ের একাডেমিক সাফল্য, পাসের হার, জিপিএ-৫ অর্জনের ধারাবাহিকতা এবং প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষাবিষয়ক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সহপাঠী (Sohopathi)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে বরিশাল বিভাগের ২০টি কলেজকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, উত্তীর্ণের সংখ্যা, GPA-5 অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের ধারাবাহিকতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তালিকায় বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, পিরোজপুর ও মাদারীপুর জেলার সরকারি-বেসরকারি এবং ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন কলেজ রয়েছে।
বরিশাল বিভাগের আলোচিত ২০ কলেজ
১. বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ
বরিশাল নগরীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৭ সালে। পরে এটি জাতীয়করণ করা হয়।
সহপাঠীর ফলাফল বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১৬ হাজার ১৮২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন উত্তীর্ণ এবং ৪ হাজার ১৩ জন GPA-5 অর্জন করেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের গড় পাসের হার ৮৮.৮৯ শতাংশ।
২০২৫ সালেও কলেজটি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ভালো ফল করে। ওই বছর ৭৮২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৬৬ জন উত্তীর্ণ হন এবং ৩১৩ জন GPA-5 পান।
২. বেতাগী সরকারি কলেজ
বরগুনার বেতাগী উপজেলার অন্যতম পুরোনো সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেতাগী সরকারি কলেজ। ১৯৭২ সালে উচ্চমাধ্যমিক কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়।
২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের ফলাফল বিশ্লেষণে কলেজটির গড় পাসের হার প্রায় ৭৭.৫৩ শতাংশ বলে তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ
বরিশাল নগরীর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কসংলগ্ন সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ সালে এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয়করণ করা হয়।
২০০৯–২০২৫ সালের ফলাফলে কলেজটির ১৫ হাজার ২০৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৩ হাজার ৩৬৯ জন উত্তীর্ণ হন। এ সময়ে GPA-5 অর্জন করেন ৩ হাজার ১৬৩ জন। গড় পাসের হার প্রায় ৮৭.৯১ শতাংশ।
৪. বরিশাল ক্যাডেট কলেজ
বরিশাল বিভাগের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ধারাবাহিক ফলাফলের দৃষ্টান্তগুলোর একটি বরিশাল ক্যাডেট কলেজ।
সহপাঠীর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯–২০২৫ সালের ১৭টি এইচএসসি ফলাফলে ৮০২ জন পরীক্ষার্থীর সবাই উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৪১ জন GPA-5 অর্জন করেছেন। অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের পাসের হার ১০০ শতাংশ এবং GPA-5-এর হার প্রায় ৯২.৩৯ শতাংশ।
২০২৫ সালের এইচএসসি ফলাফলেও ৫১ জন পরীক্ষার্থীর সবাই GPA-5 পেয়েছেন।
৫. অমৃতলাল দে মহাবিদ্যালয়
বরিশাল নগরীর হাসপাতাল রোডের অমৃতলাল দে মহাবিদ্যালয় ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় পাঠদান করা হয়।
আপনার সরবরাহ করা দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল অনুযায়ী, ২০০৯–২০২৫ সালে কলেজটির গড় পাসের হার প্রায় ৯৩.৯৭ শতাংশ এবং ২ হাজার ৭৭২ জন GPA-5 অর্জন করেছেন।
৬. গুটিয়া আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ
বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুটিয়া আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালে।
২০০৯–২০২৫ সালের ফলাফলে ৬ হাজার ৩২২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৫ হাজার ৫৭৩ জন উত্তীর্ণ হন। GPA-5 অর্জন করেন ৪৫১ জন। গড় পাসের হার প্রায় ৮৮.১৫ শতাংশ।
৭. ভোলা সরকারি কলেজ
১৯৬২ সালে যাত্রা শুরু করা ভোলা সরকারি কলেজ ভোলা জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৭৯ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়।
২০০৯–২০২৫ সালের ১৬টি প্রকাশিত ফলাফলে ৭ হাজার ৬৯৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ হাজার ৭৩৯ জন উত্তীর্ণ হন। GPA-5 পেয়েছেন ১ হাজার ১১০ জন। গড় পাসের হার প্রায় ৮৭.৫৮ শতাংশ।
৮. পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজ
পিরোজপুর সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৯ সালে। নারী শিক্ষার প্রসারে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সহপাঠীর তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯–২০২৫ সালে ৮ হাজার ২১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭ হাজার ২৭৬ জন উত্তীর্ণ হন। GPA-5 পেয়েছেন ৮১৭ জন। গড় পাসের হার ৮৮.৫৭ শতাংশ।
৯. সরকারি বরিশাল কলেজ
বরিশাল নগরীর অন্যতম পরিচিত সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি বরিশাল কলেজ। একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের পরিচিতি রয়েছে।
১০. বেগম রহিমা ইসলাম মহিলা কলেজ
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ এলাকায় অবস্থিত বেগম রহিমা ইসলাম মহিলা কলেজ স্থানীয়ভাবে নারী শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান।
২০১২–২০২৫ সালের ফলাফল অনুযায়ী, কলেজটির গড় পাসের হার প্রায় ৮৬.৩৭ শতাংশ।
১১. মাহিলারা ডিগ্রি কলেজ
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলারা এলাকায় অবস্থিত মাহিলারা ডিগ্রি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৬ সালে।
২০০৯–২০২৫ সালের ফলাফলে ৮ হাজার ৪৭৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭ হাজার ৩০৭ জন উত্তীর্ণ হন। GPA-5 পেয়েছেন ৫৮১ জন। গড় পাসের হার প্রায় ৮৬.২২ শতাংশ।
১২. সরকারি পটুয়াখালী কলেজ
১৯৫৭ সালে যাত্রা শুরু করা সরকারি পটুয়াখালী কলেজ বরিশাল বিভাগের অন্যতম পুরোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উচ্চমাধ্যমিক থেকে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।
১৩. পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ
১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজ দক্ষিণাঞ্চলের নারী শিক্ষার অন্যতম পুরোনো প্রতিষ্ঠান। নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা রয়েছে।
২০২৫ সালের এইচএসসি ফলাফলেও কলেজটি পটুয়াখালী জেলায় উল্লেখযোগ্য ফল করেছে বলে প্রকাশিত ফলাফলভিত্তিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
১৪. সরকারি বাকেরগঞ্জ কলেজ
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার অন্যতম পরিচিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি বাকেরগঞ্জ কলেজ। উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
১৫. সরকারি ব্রজমোহন কলেজ
বরিশালের শিক্ষার ইতিহাসে সরকারি ব্রজমোহন কলেজ (বিএম কলেজ) একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। ১৮৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠান কীর্তনখোলা নদীর তীরে বরিশালের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
দীর্ঘ ইতিহাস, উচ্চশিক্ষার বিস্তৃত সুযোগ এবং বরিশালের শিক্ষা-সংস্কৃতিতে ভূমিকার কারণে কলেজটির আলাদা অবস্থান রয়েছে।
১৬. ভোলা সরকারি মহিলা কলেজ
ভোলা সদর উপজেলার ভোলা সরকারি মহিলা কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭২ সালে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত এ প্রতিষ্ঠানে উচ্চমাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
১৭. সরকারি ফজলুল হক কলেজ
বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চাখারে অবস্থিত সরকারি ফজলুল হক কলেজ দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হকের উদ্যোগে ১৯৪০ সালে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
চাখারকে শিক্ষা ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পেছনে প্রতিষ্ঠানটির ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।
১৮. বরগুনা সরকারি কলেজ
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বরগুনা সরকারি কলেজ বরগুনা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। উচ্চমাধ্যমিকের পাশাপাশি ডিগ্রি ও স্নাতক পর্যায়েও শিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে।
১৯. সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ
মাদারীপুরের অন্যতম পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা হয়।
দীর্ঘ ইতিহাস ও শিক্ষাকার্যক্রমের কারণে মাদারীপুরের শিক্ষা ব্যবস্থায় কলেজটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান রয়েছে।
২০. আমতলী সরকারি কলেজ
বরগুনার আমতলী সরকারি কলেজ ১৯৬৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ডিগ্রি ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয় এবং ২০১৬ সালে কলেজটি জাতীয়করণ করা হয়।
শুধু তালিকা নয়, কলেজ বাছাইয়ে যা দেখবেন
বরিশাল বিভাগের কলেজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু একটি বছরের ফলাফল দেখে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই ভালো। শিক্ষার্থীদের নিজের SSC ফল, পছন্দের বিভাগ, কলেজের ভর্তি যোগ্যতা, আসনসংখ্যা, বিষয়ভিত্তিক সুযোগ, যাতায়াত ব্যবস্থা, আবাসন এবং শিক্ষার পরিবেশ বিবেচনায় নেওয়া উচিত।
দীর্ঘমেয়াদি ফলাফলের দিকে তাকালে বরিশাল বিভাগের বেশ কয়েকটি কলেজের ধারাবাহিক সাফল্য চোখে পড়ে। বিশেষ করে বরিশাল ক্যাডেট কলেজের ১০০ শতাংশ পাসের দীর্ঘ ধারাবাহিকতা, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের বড় সংখ্যক পরীক্ষার্থীর পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য GPA-5 অর্জন এবং অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী কলেজের স্থায়ী ফলাফল তাদের আলাদা করে তুলে ধরে।
তবে ‘সেরা কলেজ’ নির্ধারণের ক্ষেত্রে একটি মাত্র র্যাংকিংকে চূড়ান্ত মানদণ্ড হিসেবে না দেখে শিক্ষার্থীর নিজের ফলাফল ও শিক্ষাগত লক্ষ্য অনুযায়ী কলেজ নির্বাচন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নোট: এই তালিকাটি ২০০৯–২০২৫ সালের ফলাফল ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তথ্যের ওপর তৈরি। এটি কোনো সরকারি ‘সেরা কলেজ’ র্যাংকিং নয়; বরং ফলাফল ও প্রতিষ্ঠানের তথ্যভিত্তিক একটি তুলনামূলক চিত্র।

























