ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পর বরিশাল-ঢাকাসহ নৌরুটে বাড়ল লঞ্চ ভাড়া
- প্রকাশের সময়: 03:50:41 pm, Thursday, 24 September 2026
- / 62 Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: জ্বালানি তেল ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির পরপরই বরিশাল-ঢাকাসহ বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ নৌরুটে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া বেড়েছে। সরকারি নতুন ভাড়ার তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের আগেই মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) থেকে বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। শ্রেণিভেদে ডেক, সোফা ও কেবিনের ভাড়া ২০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার নৌরুটে ভাড়া বেশি বাড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।
তবে লঞ্চ মালিকদের দাবি, ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, বাড়তি ভাড়া নেওয়া হলেও তা সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ ভাড়ার সীমার মধ্যে রয়েছে।
জানা গেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নদীবন্দর বরিশাল নদীবন্দর থেকে পদ্মা সেতু চালুর আগে ঢাকা-বরিশাল নৌরুটে প্রতিদিন ১৭টির বেশি বিলাসবহুল নৌযান চলাচল করত। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে চলাচল করত ৫০টির বেশি একতলা লঞ্চ।
পদ্মা সেতু চালুর পর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় নৌপথে যাত্রী কমেছে। বর্তমানে বরিশাল-ঢাকা নৌরুটে প্রায় ১৫টি এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে প্রায় ৩০টি লঞ্চ রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিন ঢাকা-বরিশাল রুটে দুটি এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে পাঁচ থেকে ছয়টি লঞ্চ চলাচল করছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ডিজেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিভিন্ন রুটে লঞ্চ মালিকরা বাড়তি ভাড়া আদায় শুরু করেছেন। বরিশাল-ভোলা, বরিশাল-পাতারহাট, ইলিশা, বরিশাল-কালিগঞ্জ, বরিশাল-বোরহানউদ্দিন, বরিশাল-মৃধারহাট ও বরিশাল-উলানিয়া রুটে দৈনিক একটি করে লঞ্চ চলাচল করছে। এসব রুটে যাত্রীপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।
বরিশাল-ঢাকা নৌরুটের যাত্রী আসাদুল্লাহ হাসান বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার সময় লঞ্চে এসে ভাড়া বাড়ার বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি বলেন, একটি সিঙ্গেল কেবিনের জন্য ১ হাজার ২০০ টাকা এবং সঙ্গে একটি টিকিটের জন্য ৩৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। আগে কেবিনের ভাড়া ছিল ১ হাজার টাকা এবং ডেকের ভাড়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।
বরিশাল-ইলিশা রুটের যাত্রী আব্দুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় লঞ্চের ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আয় বাড়েনি। বাড়তি ভাড়া দেওয়ার কারণে যাত্রীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। তিনি জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারকে পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
বরিশাল লঞ্চ মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শেখ আব্দুর রহিম বলেন, সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে আগে থেকেই লঞ্চে যাত্রী কমেছে। এর মধ্যে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ২০ টাকা করে বাড়ায় পরিচালন ব্যয় আরও বেড়েছে। ফলে ভাড়া সমন্বয় করা ছাড়া মালিকদের সামনে অন্য কোনো উপায় নেই।
তিনি জানান, মঙ্গলবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে লঞ্চ মালিক সমিতির সঙ্গে নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানে প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। বরিশালে যেসব লঞ্চে বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছিল, তা মঙ্গলবার বিকেলের পর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নতুন ভাড়ার তালিকা নদীবন্দরে টাঙিয়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল বন্দর নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, লঞ্চ মালিকরা ভাড়া বাড়িয়েছেন বলে তিনি শুনেছেন। তবে তা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল রুটে ডেকের সরকার নির্ধারিত ভাড়া ৪২৯ টাকা এবং সিঙ্গেল কেবিনের ভাড়া ১ হাজার ৬০০ টাকা। এর মধ্যে সিঙ্গেল কেবিনে ২০০ টাকা এবং ডেকের ভাড়ায় ৫০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডাবল কেবিনের ভাড়া আগে ছিল ২ হাজার টাকা। সেটি ৪০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৪০০ টাকা করা হয়েছে। তার দাবি, ভাড়া সমন্বয়ের পরও তা সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ ভাড়ার সীমার মধ্যে রয়েছে। তবে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























