
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সংবিধান সংশোধনের নামে একতরফাভাবে কোনো কমিটি গঠন করা হলে সেটি বৈধ হবে না এবং জনগণ তা মেনে নেবে না।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সংবিধান সংশোধন কমিটি বলে কোনো কমিটি নেই। তারা যদি নিজেদের মতো করে একতরফাভাবে কোনো কমিটি গঠন করে, সেটি অবৈধ।”
তিনি দাবি করেন, গণভোটে দেশের অধিকাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠনের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, ক্ষমতায় আসার আগে বর্তমান সরকার গণভোটের দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও পরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “সংসদের ভেতরে একজন অবৈতনিক শিক্ষক আমাদের সংবিধান ও কার্যপ্রণালী বিধির পাঠ দেন। আমি জানতে চাই, সংবিধান বা কার্যপ্রণালী বিধির কোথায় সংসদে সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠনের বিধান আছে?”
তিনি অভিযোগ করেন, প্রথমে সংবিধান সংশোধন কমিটি এবং পরে বিশেষ কমিটি নামে একই উদ্যোগ চালিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। “জনগণের সঙ্গে আর কত ছলচাতুরি ও ধোঁকাবাজি করবেন? এর পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকুন,”—বলেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা হাজার চেষ্টা করলেও আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিস্ট হতে পারবেন না। ডামি ফ্যাসিস্ট হতে পারেন, কিন্তু জনগণ প্রকৃত ফ্যাসিস্টকেই প্রত্যাখ্যান করেছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা ১৩৩টি অধ্যাদেশ এখনও বহাল রয়েছে এবং সেগুলো বাতিল না করাকে তিনি “জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা” বলে উল্লেখ করেন।