
বরিশাল শিল্প ও বাণিজ্য মেলা শেষ হওয়ার প্রায় ১০ দিন পরও দুই শতাধিক উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীর মালামাল আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে আয়োজকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বুধবার (১৫ জুলাই) কয়েকজন উদ্যোক্তা বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. মামুন খন্দকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত টাকা দাবি করে তা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না। ফলে প্রায় ২০০ স্টলের পাঁচ শতাধিক উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও কর্মচারী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রতিবাদ করায় কয়েকজন উদ্যোক্তার ওপর হামলার অভিযোগও তুলেছেন তারা।
উদ্যোক্তারা জানান, বিভিন্ন আইনি জটিলতা কাটিয়ে গত ২৬ মে নগরীর পরেশসাগর মাঠে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের উদ্যোগে শিল্প ও বাণিজ্য মেলা শুরু হয়। অনুমোদনের মেয়াদ ছিল ২৬ জুন পর্যন্ত। পরে মেলার সময় বাড়তে পারে—এমন আশ্বাসে ১০ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করেন তারা। কিন্তু সময় বৃদ্ধি না হওয়ায় মেলা বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলে তারা মালামাল গুছিয়ে ফেরার প্রস্তুতি নেন।
মেলার উদ্যোক্তা মো. সাগরসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, মালামাল নিয়ে যেতে ছাড়পত্র চাইলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ছাড়পত্র দেওয়া হবে না বলে জানানো হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়লেও তারা চুক্তি অনুযায়ী স্টল ভাড়া পরিশোধ করেছেন বলে দাবি করেন।
তাদের আরও অভিযোগ, বুধবার সকালে প্রতিবাদ করলে স্থানীয় লোকজন নিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয়। পরে টিনের বেড়া ভেঙে বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তারা। দ্রুত এ পরিস্থিতির সমাধান করে নিজ নিজ এলাকায় ফিরতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
তবে মালামাল আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মেলা কমিটির সদস্য দিন ইসলাম। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করেই ১৫ জুলাই থেকে চার দিনের জন্য মেলার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কাউকে জোর করে আটকে রাখা হয়নি। মারধরের ঘটনাও ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছিল এবং তা স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ‘সবুজ’ নামে এক ব্যক্তি চেম্বারের পক্ষ থেকে মেলার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন এবং তিনিই অতিরিক্ত অর্থ দাবি করছেন। তবে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন বলেন, মেলার সময় বৃদ্ধি করা হয়নি, কয়েকদিন আগেই মেলা সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। স্টলসংক্রান্ত আর্থিক বিষয়টি উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে চুক্তিভিত্তিক হওয়ায় এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।
জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, উদ্যোক্তাদের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।