
এরই মধ্যে কীর্তনখোলা, সুগন্ধা, বিষখালী, তেঁতুলিয়া, মেঘনা-সুরমা, বলেশ্বর, পায়রা-শ্রীমন্ত ও কঁচা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও ঝালকাঠির উপকূলীয় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের পানি বিজ্ঞান বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী তাইজুল ইসলাম জানান, অমাবস্যা ও বাতাসের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে জোয়ারের সময় আটটি নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করছে। অমাবস্যা শেষ হতে আরও কয়েকদিন বাকি থাকায় আগামী দুই দিনে আরও কয়েকটি নদীর পানিও বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বরিশাল অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। তবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চলে জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত বরিশাল নগরসংলগ্ন কীর্তনখোলা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া ঝালকাঠির বিষখালী-সুগন্ধা, ভোলার তেঁতুলিয়া ও মেঘনা-সুরমা, পিরোজপুরের বলেশ্বর, বরগুনার বিষখালী এবং পটুয়াখালীর পায়রা-শ্রীমন্ত নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।
এদিকে আমতলীর বুড়িশ্বর-পায়রা, বাকেরগঞ্জের তেঁতুলিয়া, উজিরপুরের সন্ধ্যা, গৌরনদীর টরকী এবং কাঠিপাড়ার লোহালিয়া নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি রয়েছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে এসব নদীর পানিও বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বরিশাল আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মিলন হাওলাদার জানান, বর্তমানে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ অবস্থান করছে। এ কারণে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত এবং নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
তিনি বলেন, লঘুচাপের কারণে বরিশাল অঞ্চলে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তবে এটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।