
শ্রাবণের প্রথম দিনে বরিশালসহ দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে আবারও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে শুক্রবার (১৭ জুলাই) থেকে বরিশাল বিভাগে বৃষ্টি বাড়তে পারে। এছাড়া ২০ থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
লঘুচাপের প্রভাবে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে বরিশাল অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এর প্রভাবে বরিশাল, পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় এলাকায় দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার আরেকটি বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক বলেন, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ২০ জুলাইয়ের পর বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা জারি করা হবে।
সিনিয়র আবহাওয়াবিদ ড. বজলুর রশিদ বলেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপের কারণে খুব বেশি বৃষ্টি না হলেও ২০ জুলাইয়ের পর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় হয়ে কয়েক দিন ধরে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৫ জুলাই পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে আকাশ অধিকাংশ সময় মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে এবং মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বর্ষণে নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোও জানিয়েছে, টানা বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই বরিশালসহ উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দা, নৌযান চালক ও জেলেদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।