নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় মাদকবিরোধী অভিযানের নামে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, অর্থ আদায় এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বরিশাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর হাওলাদার ও একই এলাকার বাসিন্দা বাদশা হাওলাদার। সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি ডিবি পুলিশের দায়ের করা একটি মামলার সাক্ষী হিসেবে দেখানো লালমিয়া হাওলাদারও উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন, আগৈলঝাড়ার মোল্লাপাড়া, সাহেবেরহাটসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিবি পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কিছু সদস্য সাদা পোশাকে অভিযান চালান। এ সময় নয়ন ঢালী ও সাহিন সরদার নামে স্থানীয় দুই ব্যক্তিকে সোর্স হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন পরিবারের উঠতি বয়সী তরুণদের আটক করা হয়।
তার অভিযোগ, আটকের পর তাদের কাছে মাদক পাওয়া গেছে কিংবা মাদক দিয়ে মামলা দেওয়া হবে—এমন ভয় দেখিয়ে পরিবারের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়। দাবিকৃত অর্থ দিতে না পারলে বা প্রতিবাদ করলে সাজানো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জাফর হাওলাদার দাবি করেন, গত ১১ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার ছেলে নাদিম হোসেন (২৫), প্রতিবেশী বাদশা হাওলাদারের ছেলে কলেজশিক্ষার্থী সাব্বির এবং শহিদুল হাওলাদারের ছেলে কলেজশিক্ষার্থী সোহাগ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোন দেখছিলেন।
এ সময় নয়ন ঢালী ও সাহিন সরদারকে সঙ্গে নিয়ে ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পাল, এসআই আবজাল হোসাইনসহ কয়েকজন সদস্য এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনজনকে আটক করেন বলে দাবি করেন তিনি।
জাফর হাওলাদারের ভাষ্য, পরে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলেসহ অন্য দুজনকে নিয়ে যেতে দেখেন। আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন, আটকের সময় তাদের কারও কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়নি।
তার দাবি, গভীর রাতে সাব্বির ও সোহাগের পরিবারের কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে আগের একটি ঘটনায় ডিবির হয়রানির প্রতিবাদ করায় তার ছেলে নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জাফর হাওলাদার বলেন, পরে গৌরনদী থানায় দায়ের করা একটি মামলায় নাদিমের কাছ থেকে ১০১ পিস ইয়াবা উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়। মামলার এজাহারে ঘটনাস্থল হিসেবে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া বাজারসংলগ্ন ছয়গ্রামগামী সড়কের মুখ দেখানো হয়েছে। তার দাবি, ওই ঘটনার সঙ্গে এজাহারে বর্ণিত বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
হিসেবে দেখানো লালমিয়া হাওলাদার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নাদিমের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তাকে কীভাবে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি অবগত নন বলে দাবি করেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে উপস্থিত হন ডিবির এএসআই রাজিবের সোর্স হিসেবে জাফর হাওলাদারের অভিযোগে উল্লেখ করা নয়ন ঢালী। তিনি দাবি করেন, ১১ আগস্ট রাতের ঘটনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন।
নয়ন ঢালীর দাবি, ওই রাতে নাদিম, সাব্বির ও সোহাগের কাছে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নাদিমকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জাফর হাওলাদার আরও অভিযোগ করেন, কিছুদিন আগে রত্নপুর ইউনিয়নের বরিয়াল বারহাজার গ্রামের কাওসার নামের এক মাছচাষি ও খামার ব্যবসায়ীর মুরগির খামারে সাদা পোশাকে অভিযান চালানো হয়।
তার দাবি, অভিযানে কোনো মাদক পাওয়া না গেলেও মামলা দিয়ে ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে কাওসারের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। কয়েক দিন পর একই খামারে আবার ডিবি পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তবে কাওসার ভয়ে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে পারছেন না বলে দাবি করেন জাফর হাওলাদার।
জাফর হাওলাদার অভিযোগ করেন, এলাকায় কথিত ‘ধরপাকড় বাণিজ্য’ নিয়ে প্রতিবাদ করায় ডিবির এএসআই রাজিব চন্দ্র পালসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয় এবং তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি তার ছেলে নাদিমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই, মিথ্যা প্রমাণিত হলে মামলা থেকে তার নাম প্রত্যাহার এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
একই সঙ্গে তিনি ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
https://slotbet.online/