নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: প্রয়োজনীয় অনুমোদন, লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্রের মেয়াদ না থাকার অভিযোগের মধ্যেই বরিশাল নগরীর ‘সাউথ ইবনে সিনা’ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হচ্ছে। এতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের বৈধতা ও পরীক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও কাগজপত্রের বৈধতা না থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিতে রোগীদের বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি দক্ষ ও অনুমোদিত জনবল দিয়ে পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
সাউথ ইবনে সিনার কাগজপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, “সাউথ ইবনে সিনার আমাদের দপ্তরের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই।”
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কোনো ডায়াগনস্টিক সেন্টার প্রয়োজনীয় অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগীদের নিরাপত্তার স্বার্থে অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নজরদারি ও অভিযান জোরদারের কথাও জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শাওনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাগজপত্রের মেয়াদ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাগজপত্রের মেয়াদ নেই। আমি চালাই। আপনারা নিউজ করলে করবেন, তাতে কী হবে।”
পরে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সফল হয়নি বলে জানা গেছে।
সাউথ ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
২০২১ সালের ১০ আগস্ট মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট ব্যবহার করায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এরপর ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর এক রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শে ১০ হাজার টাকায় নয়টি পরীক্ষা করানোর পর মাত্র ২৫ মিনিটের মধ্যে সব পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে রোগীর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. শাওনকে পুলিশ আটক করেছিল বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি পরিবেশ অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ট্রেড লাইসেন্সসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির মালিক শাওন পালিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়।
স্থানীয় কয়েকজন রোগী ও স্বজনের অভিযোগ, তুলনামূলক কম খরচে পরীক্ষা করানোর কথা বলে তাদের সাউথ ইবনে সিনায় পাঠানো হয়। তবে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদন বা লাইসেন্সের বৈধতা সম্পর্কে তারা জানতেন না।
তাদের মধ্যে কয়েকজনের দাবি, একই পরীক্ষা অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করানোর পর দুই প্রতিষ্ঠানের রিপোর্টে অমিল পাওয়া গেছে। পরে চিকিৎসকের কাছে রিপোর্ট দেখালে কোনো কোনো রিপোর্টের নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন, লাইসেন্স কিংবা পরীক্ষাগারের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সঠিক না থাকলে সেখানে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। ভুল পরীক্ষার ফলাফল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ক্ষেত্রে অনিয়মের সুযোগ কোনোভাবেই দেওয়া উচিত নয়। সাউথ ইবনে সিনার অনুমোদন, লাইসেন্স, জনবল, পরীক্ষাগারের মান, রিএজেন্ট এবং পূর্বের অভিযোগসহ সার্বিক কার্যক্রম তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
https://slotbet.online/