ঢাকা 4:31 am, Wednesday, 7 October 2026
শিরোনাম:
বরিশালে আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে কলেজ কর্মচারীর মৃত্যু বরিশালে ডিবির সাঁড়াশি অভিযানে ৭ জন আটক বরিশালে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার নতুন ওসি মনিরুল ইসলাম বরিশালে পিকআপের গোপন চেম্বার থেকে ৯০ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১ বরিশালে ১৮টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার, প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর বরিশাল ভাটিখানায় তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার বরিশাল সিটি নির্বাচন: বিএনপিতে ১১ মনোনয়নপ্রত্যাশী, মাঠে জামায়াত-এনসিপি বরিশালে বাজার মনিটরিং জোরদারের নির্দেশ, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি বরিশালে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট, বাড়তি দামেও মিলছে না সিলিন্ডার
সর্বশেষ
বরিশালে বাসে অভিযান, ১০ অ্যাম্পুল ইনজেকশনসহ যুবক গ্রেপ্তার বরিশালে কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান নিষেধাজ্ঞার আগে জেলেদের জালে রুপালি ইলিশ, জমজমাট ঘাট-বাজার বরিশালে আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে কলেজ কর্মচারীর মৃত্যু বরিশালে ডিবির সাঁড়াশি অভিযানে ৭ জন আটক বরিশালে ৬৩৭ মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি, চলছে শেষ মুহূর্তের ব্যস্ততা বরিশালে শেবাচিমে ডেঙ্গুতে একদিনে দুই নারীর মৃত্যু বরিশালে অ্যাম্বুল্যান্স-মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ৪ বরিশালে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা ময়মনসিংহের বাবা-ছেলের প্রতারণার সংবাদ প্রকাশ, সাবেক সেনাসদস্যের হুমকির মুখে সাংবাদিক

ফেইজবুক পেইজ- Barishal Sangbad Digital

বরিশালের তিন সরকারি কলেজে নন-ক্যাডার শিক্ষক পদায়ন, বিসিএস শিক্ষকদের ক্ষোভ

সংবাদকর্মী
  • প্রকাশের সময়: 04:04:13 am, Saturday, 22 August 2026
  • / 1084 Time View
🚨 ব্রেকিং নিউজ: আজকের সর্বশেষ সংবাদ পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন 🔰 ধন্যবাদ 🔰
বরিশাল নিউজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের সরকারি কলেজগুলোতে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নন-ক্যাডার শিক্ষকদের পদায়ন নিয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সিনিয়র ক্যাডার শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নন-ক্যাডার শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে পদায়ন দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি বরিশাল নগরের তিনটি সরকারি কলেজে নন-ক্যাডার শিক্ষকদের উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকে সরকার ১৮টি মহিলা কলেজ একযোগে সরকারি করে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ কোটায় কিছু শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পান, যারা পরবর্তীতে নন-ক্যাডার শিক্ষক হিসেবে পরিচিত হন। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি কলেজে এমন নন-ক্যাডার শিক্ষক রয়েছেন ২৪ জন। বিপরীতে বিভাগে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক রয়েছেন প্রায় এক হাজার।

অভিযোগ রয়েছে, ক্যাডারভুক্ত অনেক সিনিয়র অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাদ দিয়ে নন-ক্যাডার শিক্ষকদের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হচ্ছে।

বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে গত ২২ জুলাই উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন নন-ক্যাডার অধ্যাপক মোসা. মেহবুবা আলম। তবে তাঁর যোগদান নিয়ে কলেজের বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকদের মধ্যে আপত্তি দেখা দেয়।

কলেজের অধ্যাপক খান শাহিনুল হক বলেন, ‘মেহবুবা আত্তীকৃত নন-ক্যাডার শিক্ষক। ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজে নন-ক্যাডার দায়িত্ব নিতে পারেন না। তা ছাড়া তাঁর চেয়ে সিনিয়র শিক্ষক এ কলেজে আছেন।’

এরপর গত বৃহস্পতিবার বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে নন-ক্যাডার অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং সরকারি মহিলা কলেজে নন-ক্যাডার অধ্যাপক মু. আব্দুস সালাম হাওলাদারকে পদায়ন দেওয়া হয়।

এ পদায়নকে কেন্দ্র করে বিএম কলেজে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, কলেজে বিপুলসংখ্যক বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক ও একাধিক সিনিয়র অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও নন-ক্যাডার শিক্ষককে উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছে।

বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, নন-ক্যাডার শিক্ষকদের এ ধরনের পদায়নে তাঁরা উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। বরিশালের অনেক সিনিয়র শিক্ষককে বাদ দিয়ে এ ধরনের পদায়ন প্রশ্নবিদ্ধ।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সুবিদখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সোহরাব হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘বিভাগে নন-ক্যাডার ২৪ জন। অথচ ক্যাডার শিক্ষক প্রায় এক হাজার। বিএম কলেজে অনেক বিসিএস অধ্যাপক আছেন। অথচ এখানে দেনদরবার করে নন-ক্যাডার একজনকে পদায়ন দেওয়া হয়েছে।’

বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন বিএম কলেজ ইউনিটের সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান দাবি করেন, মামলার রায় অনুযায়ী নন-ক্যাডার শিক্ষকেরা এভাবে পদায়ন পেতে পারেন না। তিনি বলেন, শিক্ষকেরা পদায়ন পাওয়া অধ্যাপককে যোগদান না করানোর বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

বিএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, কলেজের ১৮০ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র পাঁচজন পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এতে ওই শিক্ষকের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

শিক্ষকদের আপত্তির কারণে বৃহস্পতিবার অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।’ পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বিএম কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কলেজে শিক্ষকদের বড় অংশই সরাসরি বিসিএস ক্যাডার। নন-ক্যাডার আবুল কালাম আজাদকে পদায়ন দেওয়ায় শিক্ষকেরা আমার কাছেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন; যে কারণে তাঁকে এখন পর্যন্ত যোগদান করানো হয়নি।’

 

ট্যাগ :

এই সংবাদটি আপনার সোসালমিডিয়া শেয়ার করুন

বরিশাল নিউজ

বরিশালের তিন সরকারি কলেজে নন-ক্যাডার শিক্ষক পদায়ন, বিসিএস শিক্ষকদের ক্ষোভ

প্রকাশের সময়: 04:04:13 am, Saturday, 22 August 2026

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালের সরকারি কলেজগুলোতে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ পদে নন-ক্যাডার শিক্ষকদের পদায়ন নিয়ে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, সিনিয়র ক্যাডার শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নন-ক্যাডার শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে পদায়ন দেওয়া হচ্ছে।

সম্প্রতি বরিশাল নগরের তিনটি সরকারি কলেজে নন-ক্যাডার শিক্ষকদের উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ অসন্তোষ আরও তীব্র হয়েছে।

সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকে সরকার ১৮টি মহিলা কলেজ একযোগে সরকারি করে। এসব প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ কোটায় কিছু শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ পান, যারা পরবর্তীতে নন-ক্যাডার শিক্ষক হিসেবে পরিচিত হন। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি কলেজে এমন নন-ক্যাডার শিক্ষক রয়েছেন ২৪ জন। বিপরীতে বিভাগে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের শিক্ষক রয়েছেন প্রায় এক হাজার।

অভিযোগ রয়েছে, ক্যাডারভুক্ত অনেক সিনিয়র অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও তাঁদের বাদ দিয়ে নন-ক্যাডার শিক্ষকদের অধ্যক্ষ-উপাধ্যক্ষের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করা হচ্ছে।

বরিশাল সরকারি সৈয়দ হাতেম আলী কলেজে গত ২২ জুলাই উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন নন-ক্যাডার অধ্যাপক মোসা. মেহবুবা আলম। তবে তাঁর যোগদান নিয়ে কলেজের বিসিএস ক্যাডার শিক্ষকদের মধ্যে আপত্তি দেখা দেয়।

কলেজের অধ্যাপক খান শাহিনুল হক বলেন, ‘মেহবুবা আত্তীকৃত নন-ক্যাডার শিক্ষক। ক্যাডারভুক্ত সরকারি কলেজে নন-ক্যাডার দায়িত্ব নিতে পারেন না। তা ছাড়া তাঁর চেয়ে সিনিয়র শিক্ষক এ কলেজে আছেন।’

এরপর গত বৃহস্পতিবার বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে উপাধ্যক্ষ পদে নন-ক্যাডার অধ্যাপক মো. আবুল কালাম আজাদ এবং সরকারি মহিলা কলেজে নন-ক্যাডার অধ্যাপক মু. আব্দুস সালাম হাওলাদারকে পদায়ন দেওয়া হয়।

এ পদায়নকে কেন্দ্র করে বিএম কলেজে সবচেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, কলেজে বিপুলসংখ্যক বিসিএস ক্যাডার শিক্ষক ও একাধিক সিনিয়র অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও নন-ক্যাডার শিক্ষককে উপাধ্যক্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছে।

বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, নন-ক্যাডার শিক্ষকদের এ ধরনের পদায়নে তাঁরা উদ্বিগ্ন ও ক্ষুব্ধ। বরিশালের অনেক সিনিয়র শিক্ষককে বাদ দিয়ে এ ধরনের পদায়ন প্রশ্নবিদ্ধ।

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সুবিদখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সোহরাব হোসেন হাওলাদার বলেন, ‘বিভাগে নন-ক্যাডার ২৪ জন। অথচ ক্যাডার শিক্ষক প্রায় এক হাজার। বিএম কলেজে অনেক বিসিএস অধ্যাপক আছেন। অথচ এখানে দেনদরবার করে নন-ক্যাডার একজনকে পদায়ন দেওয়া হয়েছে।’

বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন বিএম কলেজ ইউনিটের সম্পাদক অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান দাবি করেন, মামলার রায় অনুযায়ী নন-ক্যাডার শিক্ষকেরা এভাবে পদায়ন পেতে পারেন না। তিনি বলেন, শিক্ষকেরা পদায়ন পাওয়া অধ্যাপককে যোগদান না করানোর বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।

বিএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, কলেজের ১৮০ জন শিক্ষকের মধ্যে মাত্র পাঁচজন পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এতে ওই শিক্ষকের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।

শিক্ষকদের আপত্তির কারণে বৃহস্পতিবার অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করতে পারেননি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে পদায়ন পাওয়া অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব।’ পরে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

বিএম কলেজের অধ্যক্ষ শেখ মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কলেজে শিক্ষকদের বড় অংশই সরাসরি বিসিএস ক্যাডার। নন-ক্যাডার আবুল কালাম আজাদকে পদায়ন দেওয়ায় শিক্ষকেরা আমার কাছেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন; যে কারণে তাঁকে এখন পর্যন্ত যোগদান করানো হয়নি।’