নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল নগরীর চৌমাথা বাজারে নাবিস্কো কোম্পানির নামে বাজারজাত করা বাটার কুকিজ ও সুইটি বিস্কুটের প্যাকেটে ঘোষিত ওজনের তুলনায় কম পণ্য থাকার অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীর অভিযোগের পর কয়েকটি প্যাকেট ওজন করে ঘোষিত ওজনের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে নগরীর চৌমাথা বাজারের স্টার ফুড বেকারিতে বিষয়টি নজরে আসে।
ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের অভিযোগ, বিস্কুটের প্যাকেটের গায়ে নেট ওজন ১৭৫ গ্রাম উল্লেখ থাকলেও ওজন করার পর কয়েকটি প্যাকেটে ১৪৪ থেকে ১৫০ গ্রাম পর্যন্ত পণ্য পাওয়া গেছে। এতে ঘোষিত ওজনের তুলনায় কোনো কোনো প্যাকেটে প্রায় ২৫ থেকে ৩১ গ্রাম কম পণ্য থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়।
স্টার ফুড বেকারির স্বত্বাধিকারী আঃ বারেক জানান, তিনি খোকন নামে এক সেলস ম্যানের কাছ থেকে কয়েক কার্টন নাবিস্কোর বিস্কুট সংগ্রহ করেন। পরে বিক্রির সময় এক ক্রেতা প্যাকেটের ওজন কম থাকার অভিযোগ করেন।
অভিযোগটি যাচাই করতে কয়েকটি প্যাকেট ওজন করা হলে ঘোষিত ওজনের তুলনায় কম পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তিনি।
আঃ বারেক বলেন, “ক্রেতার অভিযোগের পর আমি নিজেই প্যাকেটগুলো ওজন করে দেখি। প্রায় প্রতিটি প্যাকেটেই কম ওজন রয়েছে। বিষয়টি দেখে আমি বিস্মিত হয়েছি।”
বিস্কুট সরবরাহকারী ডিস্ট্রিবিউটরের সেলস ম্যান মো. শফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, তিনি কাউনিয়ার কালাখার বাড়ির ডিস্ট্রিবিউটরের কাছ থেকে বিস্কুটগুলো এনে সরবরাহ করেছেন।
প্যাকেটে কেন ঘোষিত ওজনের চেয়ে কম পণ্য রয়েছে—এর ব্যাখ্যা ডিস্ট্রিবিউটর দিতে পারবেন বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে ডিস্ট্রিবিউটর পরিচয়ে মো. সুমন বলেন, কিছুদিন আগে নাবিস্কোর কারখানায় ওজন কম দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়েছিল। ওই ঘটনায় জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, “এগুলো আগের আনা বিস্কুট। নতুন করে যে মাল আসছে, সেগুলোতে ওজন কম দেওয়া হচ্ছে না।”
তবে ডিস্ট্রিবিউটরের এই বক্তব্যের পরও প্রশ্ন উঠেছে—যদি আগের চালানের বিস্কুটে ঘোষিত ওজনের তুলনায় কম পণ্য থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসে থাকে, তাহলে সেই চালানের পণ্য কীভাবে ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ হলো এবং দোকানে বিক্রির জন্য পৌঁছাল?
একই সঙ্গে প্যাকেটের গায়ে উল্লেখিত ১৭৫ গ্রাম ও প্রকৃত ওজনের ২৫–৩১ গ্রামের পার্থক্য কীভাবে তৈরি হয়েছে, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের মতে, প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যের মোড়কে একটি নির্দিষ্ট ওজন উল্লেখ করে বাস্তবে তার চেয়ে কম পণ্য সরবরাহের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
বিশেষ করে একই চালানের একাধিক প্যাকেটে একই ধরনের ওজনের ঘাটতি পাওয়া গেলে এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা, নাকি উৎপাদন, প্যাকেটজাতকরণ কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থার ত্রুটি—তা খতিয়ে দেখা জরুরি।
স্থানীয় ক্রেতারাও প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্যে ঘোষিত ওজন ও প্রকৃত ওজনের সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত বাজার তদারকি দাবি করেছেন।
তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং বাজারে থাকা একই চালানের পণ্য পরীক্ষা করা হোক।
https://slotbet.online/