বরিশালে এক মাসের মধ্যেই স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ প্রত্যাহার, উঠেছে নানা অভিযোগ
- প্রকাশের সময়: 01:29:09 am, Wednesday, 19 August 2026
- / 521 Time View

নিজেস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কোতোয়ালি মডেল থানার আওতাধীন স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী শাওনকে আকস্মিকভাবে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো।
সোমবার গভীর রাতে তাকে স্টিমারঘাট ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয় বলে বিএমপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
দায়িত্বকালে নানা অভিযোগ
একাধিক সূত্রের দাবি, অল্প সময়ের দায়িত্বকালেই এসআই কাজী শাওনের বিরুদ্ধে আটকের পর অর্থ আদায়ের অভিযোগ, আসামি ধরতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও গালিগালাজসহ নানা অভিযোগ উঠেছিল।
বিএমপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, সোমবার রাতে নগরীর বান্দরোড এলাকা থেকে বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের সাবেক এক কর্মকর্তার এক স্বজনকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সূত্রগুলোর দাবি, ওই ব্যক্তিকে আটকের পর এসআই শাওন তাকে টহল গাড়িতে করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যান। পরে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটি জানার পর বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের সাবেক ওই কর্মকর্তা বিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। এর পরপরই গভীর রাতে এসআই শাওনকে ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার এসআই শাওনের
তবে আটকের পর অর্থ আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই কাজী শাওন।
তিনি বলেন, তাকে হঠাৎ করে বদলি করা হয়েছে। পুলিশের চাকরিতে এ ধরনের বদলি স্বাভাবিক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রেঞ্জ পুলিশের সাবেক কর্মকর্তার স্বজনকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে কি না—জানতে চাইলে এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
দায়িত্বে এএসআই মহিউদ্দিন
এসআই কাজী শাওনকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন উল ইসলাম। তবে কী কারণে গভীর রাতে তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
শাওনকে সরিয়ে দেওয়ার পর স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ হিসেবে এএসআই মহিউদ্দিনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার রাতের ঘটনা নিয়ে জানতে চাইলে তিনিও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।
এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএমপি কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এক মাসেরও কম সময়ে প্রত্যাহার
জানা গেছে, এসআই কাজী শাওন চলতি বছরের জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের এক মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই তাকে ফাঁড়ির দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হলো।
বিএমপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, সোমবার রাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তাকে দ্রুত দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত, বিভাগীয় ব্যবস্থা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
এবিষয় আরো বিস্তারিত আসছে….

























