সম্মাননা পেলেন ১৮ শিল্পী
হারিয়ে যেতে বসা মৃৎশিল্প বাঁচাতে বরিশালে সম্মেলন
- প্রকাশের সময়: 04:27:56 am, Sunday, 18 October 2026
- / 45 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প সংরক্ষণ, প্রসার এবং এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারুশিল্পীদের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘১৭তম মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা-২০২৬’। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে মৃৎশিল্পী সম্মেলন ও সম্মাননা, বরিশালের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের কনিষ্ঠপুত্র প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ এবং পরিব্রাজক অনু তারেক।
আয়োজকেরা জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে আয়োজিত এ সম্মেলন নতুন প্রজন্মের কাছে মাটির শিল্প ও লোকজ ঐতিহ্য পরিচিত করে তুলতে ভূমিকা রাখছে।
এবার বরিশাল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, নওগাঁ ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দেড় শতাধিক মৃৎশিল্পী সম্মেলনে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১৮ জন প্রবীণ ও দক্ষ মৃৎশিল্পীকে বিভিন্ন বিভাগে সম্মাননা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ‘শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন আজীবন সম্মাননা’ পেয়েছেন ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মনসুরাবাদ ইউনিয়নের প্রবীণ মৃৎশিল্পী নিরঞ্জন পাল।
প্রদর্শনীতে মাটির ঐতিহ্যবাহী শিল্পসামগ্রী
সম্মেলন উপলক্ষে মৃৎশিল্পীরা নিজেদের হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের মাটির পাত্র, মনসার ঘট, পুতুল, শখের হাঁড়ি, মাটির খেলনাসহ নানা ঐতিহ্যবাহী লোকজ সামগ্রী প্রদর্শন ও বিক্রি করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের একসময়কার প্রসিদ্ধ ও বর্তমানে প্রায় বিলুপ্তপ্রায় মৃৎশিল্পের উপকরণ সম্পর্কে দর্শনার্থীদের পরিচিত করিয়ে দেন তাঁরা। সকালে শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।
উদ্বোধক প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের মৃৎশিল্প সংগ্রহের সঙ্গে বেড়ে ওঠার কারণে এ শিল্পের প্রতি তাঁর আগ্রহ তৈরি হয়। সময়ের সঙ্গে সেই আগ্রহ আরও গভীর হয়েছে।
তিনি বলেন, মৃৎশিল্প বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ শিল্পের বৈচিত্র্য, ইতিহাস ও নান্দনিকতা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন। ঐতিহ্যবাহী এ শিল্প সংরক্ষণ এবং তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়াতে শিল্পাঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
সামিট পাওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) ড. মনিরুল ইসলাম আখন্দ বলেন, সৃজনশীল কাজের সঙ্গে সামিট গ্রুপ সবসময় ছিল, আগামীতেও থাকবে। মৃৎশিল্পীদের কাজের উৎসাহ ধরে রাখতে ১৭ বছর ধরে তাঁদের সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, মৃৎশিল্প দেশের ঐতিহ্য। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এতে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজারো মানুষের জীবিকা রক্ষায়ও সহায়তা হবে।
পরিব্রাজক অনু তারেক বলেন, বরিশালে এ গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন প্রতিবছর নিয়মিত করার চেষ্টা চলছে। আড়ালে থাকা মৃৎশিল্পীদের জনসমক্ষে তুলে ধরার মাধ্যমে প্রায় বিলুপ্ত হতে বসা এ শিল্পধারা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।
সম্মেলনে উপস্থিত দর্শনার্থীরাও এ আয়োজনের প্রশংসা করেন। তাঁরা ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্প ও শিল্পীদের টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ বাড়ানো এবং দৈনন্দিন জীবনে মাটির তৈরি সামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধির আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গবেষক, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
























