বরিশাল নগরের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আকাশ ওরফে কালা মাসুদকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার পরও তার দ্রুত কারামুক্তি এবং পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানা-পুলিশ সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের গিলাতলী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে ১৮ জুন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কালা মাসুদের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি ও মাদকসহ অন্তত ৩০টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি পলাতক ছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত বছরের ৯ নভেম্বরও নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। তখনও তার বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকার তথ্য দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে ফের আলোচনায় আসেন। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি চরমোনাই এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া দেওয়ার অভিযোগেও তার নাম সামনে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, একজন চিহ্নিত ও বহু মামলার আসামি বারবার গ্রেপ্তার হওয়ার পরও কীভাবে জামিনে মুক্ত হয়ে পুনরায় অপরাধ কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বরিশাল সংবাদকে বলেন, “এটি কোনো পুরোনো গ্রেপ্তারের ঘটনা নয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে গিলাতলী এলাকা থেকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৩০টি মামলা রয়েছে।”
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠাই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তারা দ্রুত জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। কালা মাসুদ গত দেড় বছরে অন্তত তিনবার গ্রেপ্তার হয়েছেন।”
এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন বক্তব্যের পর সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে, বারবার গ্রেপ্তার হওয়া এবং পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়া আসামিদের ক্ষেত্রে তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন কি না।
https://slotbet.online/