বরিশাল সংবাদ ডেস্ক: কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দেওয়ার কথা থাকলেও বরিশালে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সরবরাহ করা কিছু পণ্যের মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকদের চাল, ডাল ও তেলের সঙ্গে গুঁড়া সাবান, বল সাবান ও গায়ে দেওয়ার সাবান নেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ দেওয়ার অভিযোগ করেছেন গ্রাহক ও ডিলাররা।
তাদের দাবি, টিসিবির সরবরাহ করা এসব পণ্যের কিছু নিম্নমানের হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক অনাগ্রহ তৈরি হয়েছে। ফলে পণ্য বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন বরিশাল বিভাগ ও নগর এলাকার প্রায় ৫০০ ডিলার।
বরিশাল নগরীর কালুশাহ সড়কের বাসিন্দা মুক্তা সুলতানা বলেন, ফ্যামিলি কার্ডে দেওয়া ‘সাফ’ গুঁড়া সাবানের ঘ্রাণ ভালো হলেও এতে ফেনা হয় না। কাপড়ও ঠিকমতো পরিষ্কার হয় না।
নবগ্রাম রোডের হাসি বেগমের অভিযোগ, একই কোম্পানির বল সাবান দিয়ে হাঁড়িপাতিলের কালি ও থালাবাসনের ময়লা পরিষ্কার করা যায় না। বরং এটি ব্যবহারের পর হাতের চামড়ায় সমস্যা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
টিসিবির সরবরাহ করা ‘ফ্যামিলি’ পাম অয়েল নিয়েও অভিযোগ রয়েছে গ্রাহকদের। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ঘরে রাখলে তেল জমাট বেঁধে যায়। রান্নার পর খাবারের ওপর চর্বির মতো আস্তরণ পড়ে এবং তেল আলাদা হয়ে ভেসে ওঠে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র মান পরীক্ষার ফলাফল পাওয়া যায়নি।
ডিলারদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ছয় মাস আগে টিসিবির পণ্যের তালিকায় জামাকাপড় ধোয়ার গুঁড়া সাবান, গায়ে দেওয়ার সাবান ও থালাবাসন পরিষ্কারের বল সাবান যুক্ত করা হয়।
নির্ধারিত প্যাকেজে চাল, ডাল, তেল ও চিনির সঙ্গে এসব পণ্য নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকদের কিউআর কোড স্ক্যান করে টাকা পরিশোধের পর পণ্য নেওয়ার কথা।
তবে গ্রাহকদের অনাগ্রহের কারণে এসব পণ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে জটিলতা।
গত ১২ জুলাইয়ের এক চিঠিতে টিসিবি জানায়, গ্রাহকদের সাবান বা গুঁড়া সাবান নিতে বাধ্য করা যাবে না। কোনো পণ্য অবিক্রীত থাকলে পরবর্তী মাসে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে ডিলারদের প্রশ্ন, বাজারে পরিচিত নয় এমন পণ্য ফ্যামিলি কার্ডের গ্রাহকরাই যেখানে নিতে চাইছেন না, সেখানে পরবর্তী সময়ে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা কতটা সম্ভব?
বরিশাল নগরীর এক ডিলার বলেন, এসব পণ্যের সঙ্গে বাজারে প্রচলিত পণ্যের দামেরও খুব বেশি পার্থক্য নেই। ফলে গ্রাহকদের কাছে এসব পণ্য বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
তার দাবি, নতুন নির্দেশনার পর ডিলারদের দোকানে বিপুল পরিমাণ পণ্য পড়ে আছে। এসব পণ্য টিসিবি ফেরতও নিচ্ছে না। অনেক পণ্যের গায়ে বিক্রয়মূল্যও উল্লেখ নেই বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ডিলারদের অভিযোগ, প্রায় দুই মাস ধরে গ্রাহকদের চাল দেওয়া হচ্ছে না। তবে নিয়মিতভাবে পাম অয়েল, ডিটারজেন্ট পাউডার ও বল সাবান সরবরাহ করা হচ্ছে।
এসব পণ্য না নিলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা পাওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ডিলার।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন টিসিবির বরিশাল আঞ্চলিক কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
তিনি বলেন, নতুন চালানে হুইল পাউডার ও চাকা বল সাবান দেওয়া হচ্ছে। চালের বিষয়টি খাদ্য মন্ত্রণালয় দেখায় বলে এ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারেননি।
ডিলারদের কাছে থাকা পণ্যের মান নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘টিসিবি কখনো নিম্নমানের কোনো পণ্য গ্রাহকদের দেয় না। সঠিক নিয়মে মান যাচাইয়ের পরই তা কেনা হয়।’
তার দাবি, আগের চালানে আসা সাফ ডিটারজেন্ট পাউডার, সাফ বল সাবান কিংবা ফ্যামিলি পাম অয়েল নিম্নমানের নয়।
অবিক্রীত পণ্য টিসিবি ফেরত নেবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফেরত নেওয়ার সুযোগ নেই। নির্দেশনা অনুযায়ী, গ্রাহকদের অনাগ্রহের কারণে কোনো পণ্য অবিক্রীত থাকলে এক মাস পর ডিলাররা দোকানে রেখে তা বিক্রি করে টাকা উঠিয়ে নিতে পারবেন।
https://slotbet.online/