বরিশাল ও বিশ্বকাপ ঘিরে সর্বশেষ আপডেট পড়ুন এখনই।

বরিশালে চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ায় নগরজুড়ে ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটেও।
রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, লোডশেডিংয়ের সময় আইসিইউতে অন্ধকার নেমে আসে এবং মুমূর্ষু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অভাব দেখা দেয়। এতে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা তৈরি হচ্ছে।
নগরীর ব্যবসায়ী আরিফুর রহমান জানান, মঙ্গলবার আইসিইউতে গিয়ে তিনি বিদ্যুৎবিহীন পরিবেশ দেখতে পান। বিদ্যুৎ চলে গেলে স্বজনরা মোবাইল ফোনের আলো, মোমবাতি ও হাতপাখার ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।
এদিকে বরিশালজুড়ে গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র লোডশেডিং চলছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কারণে চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে।
বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, তার আওতাধীন এলাকায় প্রায় ৯০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। অন্যদিকে বিভাগ-২ এর আওতায় ৪২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির বরিশাল অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আক্তারুজ্জামান পলাশ বলেন, “জেনারেশন শর্টেজের কারণে বরিশালে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, হাসপাতালের আইসিইউর মতো গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে বিদ্যুৎ সংকট কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেখানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও কার্যকর ব্যাকআপ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
এই খবর সম্পর্কে আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন।