বরিশাল ও বিশ্বকাপ ঘিরে সর্বশেষ আপডেট পড়ুন এখনই।

বরিশালের বাজারে সবজির দাম তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও মাছের চড়া দামে অস্বস্তিতে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। অন্যদিকে ব্রয়লার মুরগি ও মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলছে ভোক্তাদের।
সোমবার (১৫ জুন) সকালে বরিশাল নগরীর বহুমুখী সিটি মার্কেটের পাইকারি সবজির বাজার, বাংলাবাজারসহ কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে অধিকাংশ সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২৫-৩০ টাকা, শসা ১২ টাকা, করলা ২০-৩০ টাকা, পেঁপে ১৫-২০ টাকা, ঝিঙে ১৫-২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ১৫ টাকা এবং পটল ৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লাউ প্রতি পিস ২০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ২০ টাকা ও টমেটো ৭০-৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
তবে খুচরা বাজারে এসব পণ্যের দাম প্রায় দ্বিগুণ। কাঁচামরিচ ৫০-৬০ টাকা, শসা ৩০ টাকা, বেগুন ৮০-৯০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, পেঁপে ২৫-৩০ টাকা, টমেটো ৯০-১০০ টাকা এবং পটল ২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
নগরীর বাংলাবাজারের সবজি বিক্রেতা তৌহিদ বলেন, “পাইকারি বাজার থেকে সবজি এনে পরিবহন খরচ, শ্রমিক মজুরি, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিলসহ বিভিন্ন ব্যয় যোগ হয়। এজন্য খুচরা বাজারে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।”
এদিকে মুরগি ও মাংসের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, সোনালি ২৭০-২৮০ টাকা এবং লেয়ার মুরগি ২৯০-৩১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারে ক্রেতাদের সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি দেখা গেছে। নগরীর পোর্ট রোড মাছ বাজারে রুই মাছ ২৫০-৪০০ টাকা, কাতলা ২২০-৫০০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০-৭০০ টাকা এবং চিংড়ি মাছ ৮০০-১,২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, টাকি ২২০-২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৬০ টাকা এবং পাঙাশ ১৫০-১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, নদী ও সাগরে মাছের সরবরাহ কমে যাওয়ায় এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মাছের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সামুদ্রিক মাছের দামও আগের তুলনায় বেড়েছে।
পোর্ট রোড বাজারে কেনাকাটা করতে আসা মুশফিকুর রহমান বলেন, “আগে এক হাজার টাকায় মাছ ও সবজি দুটোই কেনা যেত। এখন এক হাজার টাকায় ভালো মানের এক ধরনের মাছ কিনতেই হিমশিম খেতে হয়। আর ইলিশ মাছ তো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরেই চলে গেছে।”
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, সবজির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে মাছের বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি না পেলে অদূর ভবিষ্যতে দাম আরও বাড়তে পারে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর খাদ্য ব্যয়ের চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই খবর সম্পর্কে আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন।