বরিশাল ও বিশ্বকাপ ঘিরে সর্বশেষ আপডেট পড়ুন এখনই।

বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় এইচআইভি (এইডস) সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে প্রায় চার হাজার মানুষ। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছেন নারী যৌনকর্মী, পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্ককারী ব্যক্তি (এমএসএম) এবং মাদকসেবীরা।
বুধবার (১৭ জুন) বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘এইচআইভি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী ও আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার এবং নৈতিক স্বাস্থ্য’ শীর্ষক কর্মশালায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাশরুর বিন আজাদ। তিনি জানান, বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় অন্তত ৩ হাজার ৭০৭ জন ব্যক্তি এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এর মধ্যে নারী যৌনকর্মী ১ হাজার ৫০৬ জন, পুরুষ-পুরুষ যৌনসম্পর্ককারী ব্যক্তি (এমএসএম) ১ হাজার ৪৩৬ জন এবং মাদকসেবী ৭৬৫ জন।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বরিশাল বিভাগে মোট ২০৫ জন এইচআইভি আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১৬ জন মারা গেছেন এবং ৪ জন অন্য এলাকায় স্থানান্তরিত হয়েছেন। বর্তমানে ১৮৫ জন নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।
ডা. মাশরুর বলেন, অনেকের ধারণা এইডস মানেই মৃত্যু। তবে আধুনিক চিকিৎসার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে এইচআইভি ভাইরাসের মাত্রা এমন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব, যেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি কার্যত থাকে না। এ অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তি বিয়ে এবং সন্তান গ্রহণও করতে পারেন।
তিনি বলেন, সমাজে এখনও এইচআইভি নিয়ে নানা ভুল ধারণা ও আতঙ্ক বিদ্যমান। বাস্তবে আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ, একসঙ্গে বসবাস কিংবা খাবার গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায় না। মূলত অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক, সংক্রমিত রক্ত গ্রহণ কিংবা দূষিত সূঁচ ব্যবহারের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়াতে পারে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীর। তিনি বলেন, সামাজিক সংকোচ, ভীতি ও বৈষম্যের কারণে অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেদের পরিচয় গোপন রাখেন। ফলে প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়েও বেশি হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মশালায় হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এ কে এম নাজমুল আহসান, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. কামরুজ্জামানসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
এই খবর সম্পর্কে আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন।