বরিশাল ও বিশ্বকাপ ঘিরে সর্বশেষ আপডেট পড়ুন এখনই।

বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোড এলাকায় এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর জখমের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সন্ত্রাসী হামলা, মাদকের বিস্তার এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে নগরীর সিঅ্যান্ডবি মহাসড়কের চৌমাথা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ৩১ মে নবগ্রাম রোডের নলিনী দাস পোল এলাকায় ঘর নির্মাণের বালু রাখাকে কেন্দ্র করে দ্বীন ইসলাম ওরফে মুন্না (৩১)-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তারা বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমন নৃশংস হামলা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
বক্তারা আরও দাবি করেন, নগরীর পলাশপুর, রূপাতলী ও কাউনিয়া এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে আহত মুন্নার সহপাঠী, স্বজন ও স্থানীয় এলাকাবাসীসহ তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন খান বাশার, ফারুক খান, হুমায়ুন খান, রাসেল ও সজিব হাওলাদারসহ অনেকে।
এদিকে হামলার ঘটনায় গত ৩ জুন বরিশাল মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ঘটনার সঙ্গে দলের কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহানগর বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মীর জাহিদুল ইসলাম ও বর্তমান সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার বলেন, “মাদকাসক্ত ও সন্ত্রাসীদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় থাকতে পারে না। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলে এদের মোকাবিলা করতে হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৩১ মে সকালে বালু রাখাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন মুন্না। পরে তাকে প্রথমে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় মুন্নার মা কুলসুম বেগম বাদী হয়ে মিলন খান ও রানাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পরিবারের অভিযোগ, মামলার আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে।
মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম সিফাতুল মজুমদার। তিনি বিক্ষোভকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, “আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে। দ্রুতই জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।”
এই খবর সম্পর্কে আপনার মতামত নিচে কমেন্ট করুন এবং শেয়ার করুন।