মেঘ দেখলেই বিদ্যুৎ বিভ্রাট, দুর্ভোগে বরিশালবাসী
- প্রকাশের সময়: 01:51:59 am, Wednesday, 8 April 2026
- / 225 Time View

বরিশাল প্রতিনিধি: আকাশে সামান্য মেঘ জমলেই বরিশাল নগরীসহ পুরো অঞ্চলে শুরু হচ্ছে বিদ্যুৎ বিভ্রাট। জ্বালানি সংকটের মধ্যে চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের বেশি ঘাটতির কারণে পরিস্থিতি দিন দিন আরও নাজুক হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে গত ৯ মার্চ বৃষ্টিপাতের পর থেকে কয়েক দফা সামান্য বৃষ্টি হলেই বরিশাল মহানগরীসহ আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সর্বশেষ সোমবার রাত সোয়া ১১টা থেকে মঙ্গলবার রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নগরীর নবগ্রাম রোড সাব-স্টেশনে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই আবারো একাধিক ১১ কেভি ফিডারে ত্রুটি দেখা দেয়। এতে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো সিস্টেম ভেঙে পড়ে।
এ বিষয়ে ওজোপাডিকো-এর নির্বাহী পরিচালক জানান, সমস্যাটি তাদের নজরে রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসন্ন কালবৈশাখী ও বর্ষা মৌসুমে কোনো ধরনের অবহেলা সহ্য করা হবে না বলেও জানান তিনি।
দীর্ঘ ১২৭ দিন পর বৃষ্টির দেখা মিললেও তা পর্যাপ্ত নয়। মার্চজুড়ে মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ২৮ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪৯ শতাংশ কম। ফলে মাঠে থাকা বোরো ধান নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন কৃষকরা।
তবে সাম্প্রতিক হালকা বৃষ্টিতে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও খেপুপাড়াসহ আশপাশের এলাকায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কৃষিবিদরা বলছেন, এতে সেচের প্রয়োজন কিছুটা কমবে এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাস পাবে।
দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদিত প্রায় ৩৫ লাখ টন তরমুজের মধ্যে এখনো প্রায় ১৮ লাখ টন মাঠে রয়েছে। ডিজেল সংকট ও পরিবহন সমস্যার কারণে সময়মতো তরমুজ বাজারজাত করা সম্ভব হয়নি।
তবে গত এক সপ্তাহে পরিবহন ব্যবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় এখন সড়ক ও নৌপথ।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে বরিশালে ১২০-১৪০ মিলিমিটার এবং মে মাসে ২৩০-২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছে মাত্র ১ মিলিমিটার।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আকাশে মেঘ জমে বজ্রধ্বনি শোনা গেলেও রাত পর্যন্ত বৃষ্টির দেখা মেলেনি।

























