নিজস্ব প্রতিবেদক: তিস্তা বাঁধ প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বরিশালের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) সুফল চন্দ্র গোলদার ও এক কানুনগোসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের রংপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রায়হান বকসী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কানুনগো শরীফ আহমেদ, স্থানীয় ব্যক্তি মো. আফতাব আলম, মো. শাহাবউদ্দিন, মো. হাফিজ উদ্দিন লালখা ও অখিল চন্দ্র।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৪ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) পরিচালিত তিস্তা বাঁধ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বাড়াইশালপাড়া মৌজায় জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
২০১৬ সালে এলএ কেসের অধীনে নির্দিষ্ট পরিমাণ জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরবর্তীতে জাল কাগজপত্র ও ভুয়া রেকর্ড তৈরি করে প্রকৃত মালিকদের পরিবর্তে অন্যদের নামে ক্ষতিপূরণের অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে।
তদন্তে উঠে এসেছে— মো. হাফিজ উদ্দিন লালখা প্রকৃত প্রাপ্য ৬ লাখ ১১ হাজার টাকার বিপরীতে জাল নথির মাধ্যমে অতিরিক্ত প্রায় ১৩ লাখ ৭৪ হাজার টাকা উত্তোলন করেন।
অখিল চন্দ্রের নামে কোনো জমি না থাকলেও জালিয়াতির মাধ্যমে ৩০ লাখ ৫৫ হাজার টাকার বেশি আত্মসাৎ করা হয়।
একইভাবে, মো. আফতাব আলম ও অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও প্রকৃত মালিকানা পরিবর্তন করে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
দুদক বলছে, এসব অর্থ আত্মসাতের জন্য ‘না-দাবিপত্র’ ও ‘অঙ্গীকারনামা’ জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি করে এলএ কেস নথিতে সংযুক্ত করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, কানুনগো শরীফ আহমেদ চেক প্রস্তুত করেন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুফল চন্দ্র গোলদার তাতে স্বাক্ষর করেন। পরে অন্যান্য আসামিরা ওই অর্থ উত্তোলন করেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে সুফল চন্দ্র গোলদার বলেন,
“যে খতিয়ান দেওয়া হয়েছে, তা আদালতের রায় অনুযায়ী সঠিক। দুদক সেটি ভুল বলছে। বিষয়টি আমরা আদালতে লড়বো।”
মামলার বাদী মো. ফেরদৌস রায়হান বকসী জানান, দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে আরও কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।