নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশালে যৌক্তিক কারণ ছাড়াই জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে ট্রাক ও ট্রলারের ভাড়া বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে পরিবহণ মালিকদের বিরুদ্ধে। গত এক মাস ধরে নগরী ও জেলার বিভিন্ন রুটে পণ্য পরিবহণে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
নগরীর বাজার রোডের ব্যবসায়ীরা জানান, জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও সংকটের অজুহাতে পরিবহণ ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। এতে পণ্য পরিবহণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বাজারে পণ্যের দামও বাড়ছে।
চাল ব্যবসায়ী সঞ্জয় ঘোষ বলেন, “আগে যেখানে এক ট্রাক চাল আনতে নির্দিষ্ট খরচ হতো, এখন সেখানে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি ট্রাকের সংকটও রয়েছে।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পণ্যের দাম বাড়ালে প্রশাসন ব্যবস্থা নিলেও পরিবহণ খাতে তেমন নজরদারি না থাকায় মালিকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। তারা দ্রুত ভাড়া নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে খায়রুল আলম সুমন, জেলা প্রশাসক, বলেন—পণ্যবাহী যানবাহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ রয়েছে। কেউ যদি তেলের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে, অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম নিয়মিত কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
বরিশালের নদীমাতৃক উপজেলাগুলোতে পণ্য পরিবহণে ট্রলারের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। এসব এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, বাড়তি ভাড়ার কারণে সব পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
হিজলা উপজেলার বড়জালিয়া ইউনিয়নের মুদি দোকানদার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আগে যেখানে ট্রলার ভাড়া ছিল ১২-১৩ হাজার টাকা, এখন সেখানে ১৫-১৬ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে।”
অন্যদিকে কয়েকজন ট্রাকচালক দাবি করেন, জ্বালানি নিতে ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ফলে মালিকরা আগের ভাড়ায় ট্রিপ দিতে আগ্রহী নন, যার কারণে ভাড়া কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর উপপরিচালক অপূর্ব অধিকারী জানান, নাগরিকদের স্বার্থে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পরিবহণ খাতে অতিরিক্ত ভাড়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।