
বরিশাল প্রতিনিধি: অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা দ্রুত প্রদানের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, বরিশাল জেলা কমিটির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) সুভাষ চন্দ্র পালের সভাপতিত্বে এবং উপাধ্যক্ষ (অব.) আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বরিশাল সিটি কলেজ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান সেলিম, সহ-সভাপতি বাবুগঞ্জ কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মো. শাহে আলম, অধ্যক্ষ আনিসুর রহমান, উজিরপুর উপজেলা সভাপতি অধ্যক্ষ সরদার জহিরউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, বাকেরগঞ্জ উপজেলার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শেখ শাহাবুদ্দিন আহমেদ, বানারীপাড়া উপজেলার নেতা মো. মাহাবুব হোসেন, বরিশাল মহানগর শিক্ষক নেতা অধ্যাপক টুনু রানী কর্মকার ও অধ্যাপক আব্দুস সালাম, বরিশাল সদর উপজেলা সভাপতি অধ্যাপক টুটুল মুখোপাধ্যায় ও সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ সাকুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ সুভাষ চন্দ্র পাল বলেন, দেশের প্রায় ৯৫ শতাংশ শিক্ষা কার্যক্রম বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম বৈষম্যের শিকার। অবসর গ্রহণের পর বেতন-ভাতা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকেই ৪-৫ বছর ধরে অবসর ভাতা না পেয়ে চরম দুর্ভোগে আছেন।
তিনি আরও বলেন, “অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা না পেয়ে অনেক শিক্ষক চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছেন—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও লজ্জাজনক।” তিনি হাইকোর্টের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
উপাধ্যক্ষ আনোয়ারুল হক জানান, ২০১৯ সালে দায়ের করা একটি রিটের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা ১০ শতাংশ হারে নির্ধারণ করে অবসর গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনো সেই নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি আরও দাবি জানান, ছয় মাসের বেশি বিলম্ব হলে সরকারি কর্মচারীদের জিপি ফান্ডের মতো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা প্রদান, এবং সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা চালু করতে হবে।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নেতৃবৃন্দ দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেন।