নিজেস্ব প্রতিবেদক: বরিশাল নগরীর বর্মন রোড এলাকার ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ির সম্পত্তি দখলের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বর্মন পরিবারের উত্তরসূরি সুব্রত প্রসাদ বর্মন (মিঠু)। বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
সুব্রত প্রসাদ বর্মন জানান, তার পূর্বপুরুষ জমিদার বিজয় প্রসাদ বর্মন বেনিসিংহের হাবেলী এলাকায় বিপুল পরিমাণ জমির মালিক ছিলেন। তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে তিন পুত্র—দেবপ্রসাদ বর্মন, অনিল প্রসাদ বর্মন ও সুনীল প্রসাদ বর্মন—সম্পত্তির মালিকানা পান।
তিনি দাবি করেন, ১৯৫৮ সালের ১১ অক্টোবর নিবন্ধিত একটি দলিলের মাধ্যমে এসএ ৬৯৫ খতিয়ানের কিছু জমি হস্তান্তর করা হলেও মনসা মন্দির ও পারিবারিক সমাধিস্থলের নির্দিষ্ট অংশ উপাসনার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, পরবর্তীতে বিভিন্ন পর্যায়ে হস্তান্তরের মাধ্যমে জমিটি স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির দখলে চলে যায়। বর্তমানে সংরক্ষিত মনসা মন্দির ও পারিবারিক সমাধিস্থলের অংশ ভেঙে দখল করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সুব্রত প্রসাদ বর্মন বলেন, “দুইশ বছরের পুরনো মনসা মন্দির ও পূর্বপুরুষদের সমাধিস্থল এখন আমাদের দখলে নেই। আমরা সেখানে যেতে বা ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছি না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এসএ ৬৯৫ খতিয়ানের ১২৫৮ দাগের ৭ শতাংশ জমি বিক্রি করা হয়নি এবং তা বর্তমানে বিএস ৫৪২৯ নং খতিয়ানে তাদের নামে থাকলেও বাস্তবে তারা ভোগদখল করতে পারছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বরিশালের প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দখলমুক্ত করে পৈতৃক সম্পত্তি ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
এ সময় অভিযোগ করা হয়, সংশ্লিষ্ট দখলকারীর সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বেনিসিংহের হাবেলী এলাকায় অবস্থিত বর্মন পরিবারের ঐতিহ্যবাহী দোতলা প্রাচীরঘেরা বাড়িটি ইতোমধ্যে ভেঙে ফেলা হয়েছে।