বিশেষ প্রতিবেদক, বরিশাল: প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়েছে। গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে তেল সরবরাহ বন্ধ থাকায় শহরের পেট্রোলপাম্পগুলোতে বাড়ছে যানবাহনের চাপ। এতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কায় অনেকেই অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে চলা তৃণমূল পর্যায়ের সাপ্লাই চেইন সচল থাকলে এ সংকট তৈরি হতো না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তেল সরবরাহের বিদ্যমান কাঠামো অনুযায়ী, কোম্পানি থেকে পাম্পে জ্বালানি সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি ডিপো থেকে প্যাক পয়েন্ট ডিলাররা তেল নিয়ে তা ড্রামে সংরক্ষণ করে বিক্রি করেন। তাদের কাছ থেকে সাব-ডিলাররা তেল নিয়ে গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করতেন। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্দেশনায় এই চেইন কার্যত ভেঙে পড়েছে।
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার এক প্যাক পয়েন্ট ডিলার জানান, আগে পাম্প থেকে ড্রামে তেল নেওয়ার সুযোগ থাকলেও এখন তা বন্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে ডিপো থেকে আগের তুলনায় কম তেল সরবরাহ পাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আগে স্থানীয় দোকান থেকেই তেল পাওয়া যেত। এখন ১০ কিলোমিটার দূরের পাম্পে যেতে হচ্ছে।”
একই চিত্র বরিশালের হিজলা উপজেলাতেও। স্থানীয় তেল বিক্রেতা দলিলুর রহমান জানান, আগে প্রতি সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি বিক্রি হলেও এখন সরবরাহ প্রায় বন্ধ।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ মজুত রোধ এবং অপচয় কমাতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-এর নির্দেশনা অনুযায়ী সরবরাহে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। তবে এর ফলে তৃণমূল পর্যায়ের সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
মেঘনা অয়েল কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলেন, বরিশাল বিভাগের বহু ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে পেট্রোলপাম্প নেই। সেখানে প্যাক পয়েন্ট ডিলার ও সাব-ডিলারদের মাধ্যমেই তেল সরবরাহ হতো। এই চেইন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামাঞ্চলে সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতবিরোধী অভিযানের কারণে অনেক সাব-ডিলার তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে গ্রামীণ বাজারগুলোতে তেল সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
পেট্রোলপাম্প মালিকরা বলছেন, গ্রামে তেল না পাওয়ায় এখন সব চাপ শহরের পাম্পগুলোতে এসে পড়েছে। এতে প্রতিদিনই দীর্ঘ হচ্ছে যানবাহনের সারি।
তবে যমুনা অয়েল কোম্পানির বরিশালের ডিএমও কাওসার হোসেন বলেন, “পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ সংরক্ষণ ও বিক্রিতে নিরাপত্তা বিধি মানা জরুরি। লাইসেন্স ছাড়া তেল বিক্রি করা ঝুঁকিপূর্ণ।”
অন্যদিকে মেঘনা অয়েল কোম্পানির ডিএমও আনিসুর রহমান জানান, ভবিষ্যতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে বৈধ প্যাক পয়েন্ট ডিলারশিপ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃণমূল পর্যায়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা পুনর্গঠন না করলে এ সংকট দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
https://slotbet.online/