


বরিশালে পৃথক দুটি রাজনৈতিক মামলায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নয়জন নেতাকর্মীকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আদালত। এর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার মামলায় জাতীয় পার্টির চারজন এবং হিজলায় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলায় আওয়ামী লীগের পাঁচজন নেতাকর্মীকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। একই সঙ্গে বরিশাল মহানগর জাতীয় পার্টির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহাসিনুল ইসলাম হাবুলকে জামিন দিয়েছেন আদালত।
রবিবার বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক ইসরাত জাহান এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী কামরুল ইসলাম।
জাতীয় পার্টির চার নেতার জেলহাজতে প্রেরণ
জেলহাজতে প্রেরিত জাতীয় পার্টির চার নেতা হলেন — মোহাম্মদ জুম্মান, আক্তার হোসেন, রফিকুল ইসলাম ও নজরুল ইসলাম।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নগরীর সদর রোড এলাকায় জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ সময় গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা তাদের এমন স্লোগান না দিতে অনুরোধ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পরে গণঅধিকার পরিষদ বরিশাল মহানগরের সহসভাপতি শফিকুল ইসলাম সাগর বাদী হয়ে দুই থেকে আড়াই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় চারজনকে জেলহাজতে পাঠানো হয় এবং আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মহাসিনুল ইসলাম হাবুল জামিন পান।
হিজলায় আওয়ামী লীগের পাঁচজন জেলহাজতে
অন্যদিকে, বরিশালের হিজলা উপজেলায় বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ের হওয়া বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতাকর্মী — মো. শাহাবুদ্দিন পণ্ডিত, মো. মোশারফ হোসেন তালুকদার, মো. লিয়াকত কাজী, মো. হুমায়ুন কবির ও মো. ইলিয়াস মোল্লা —কে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলার সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২২ জুলাই হিজলায় বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহজালাল রাজিব বাদী হয়ে বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।
উভয় মামলার তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।