
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে প্রকাশ্যে আর্থিক সহযোগিতা চেয়ে ফেসবুকে ভিডিও বার্তা দিয়েছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তার এ ব্যতিক্রমী প্রচারণা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক।
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ভিডিওটি প্রকাশ করেন তিনি।
বরিশাল–৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ব্যারিস্টার ফুয়াদের মনোনয়নপত্র ইতোমধ্যে বৈধ ঘোষণা করেছে বরিশাল জেলা রিটার্নিং অফিসার। মনোনয়ন দাখিলের আগেই তিনি ও তার সমর্থকেরা নির্বাচনী এলাকায় জোরালো গণসংযোগ চালান।
ফেসবুকে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন,
“বরিশাল–৩ আসনের বাবুগঞ্জ ও মুলাদী উপজেলার প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা চালানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও চ্যালেঞ্জিং। জনসংযোগ, যাতায়াত ও প্রচার কার্যক্রম চালিয়ে নিতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা জরুরি হয়ে পড়েছে। নির্বাচন পরিচালনার জন্য টাকা দরকার। কিন্তু আমার এত টাকা নেই, আয়ও নেই।”
তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর জুলাই সনদের ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রাম চলছে। এই লড়াই শত শত শহীদের রেখে যাওয়া আমানত।”
ভিডিওর পাশাপাশি দেওয়া পোস্টে যারা আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে ইচ্ছুক, তাদের জন্য বিকাশ, নগদ নম্বর ও ব্যাংক হিসাবও প্রকাশ করেন তিনি।
ব্যারিস্টার ফুয়াদের প্রকাশ্যে অর্থ চাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনেকেই বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন,
“আইন পেশায় যুক্ত বহু আইনজীবী অল্প সময়েই শত কোটি কিংবা অর্ধশত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। বরিশালের আদালতপাড়ায় এমন উদাহরণ নতুন নয়। সে তুলনায় ব্যারিস্টার ফুয়াদ একজন সুপরিচিত ও আলোচিত ব্যক্তিত্ব। তার এমনভাবে টাকা চাওয়া অনেকের কাছেই বেমানান মনে হয়েছে।”
তাদের মতে, একজন জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতিকের কাছ থেকে এমন আর্থিক আবেদন রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য নতুন হলেও প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
তবে ব্যারিস্টার ফুয়াদের এ উদ্যোগকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তার সমর্থকেরা। মুলাদী উপজেলার চরকালেখান নোমরহাট এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন,“অনেকে ছাত্ররাজনীতি করে অল্প সময়েই কোটিপতি হয়ে যান। সেখানে নিজের আর্থিক সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে জনগণের সহযোগিতা চাওয়া ব্যারিস্টার ফুয়াদের সততার পরিচয়। সাধারণ মানুষের টাকায় এমপি হলে তিনি জনগণের কাছে আরও বেশি দায়বদ্ধ থাকবেন।”
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের মধ্যে ব্যারিস্টার ফুয়াদের এই পদক্ষেপ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি একদিকে যেমন স্বচ্ছ রাজনীতির বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি নির্বাচনী আচরণবিধি ও রাজনৈতিক শালীনতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।