বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে কথিত স্বামীর বাড়িতে অনশনে বসেছেন এক তরুণী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্কের পর ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে হয়েছে। তবে এখন তাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে স্বামীর পরিবার। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরকাউয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দিনারেরপুল এলাকার চাঁন মিয়ার মেয়ে মুসকান আক্তারের সঙ্গে একই এলাকার সবুজ হাওলাদারের ছেলে ইমন হাওলাদারের প্রায় দেড় বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এরই মধ্যে পারিবারিকভাবে মুসকানের অন্যত্র বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে গত ৪ জুলাই তিনি পরিবারের কাউকে না জানিয়ে শরীয়তপুরে ইমনের কাছে চলে যান।
মুসকানের অভিযোগ, শরীয়তপুরে অবস্থানকালে একজন ইমামের মাধ্যমে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। চার দিন সেখানে থাকার পর গত ১১ জুলাই ইমন তাকে নিজের মায়ের কাছে রেখে আবার কর্মস্থল শরীয়তপুরে চলে যান। পরে ইমনের মা মুসকানকে তার বাবার বাড়িতে পৌঁছে দেন।
এরপর বুধবার (২২ জুলাই) সকালে মুসকান স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে ইমনের বাড়িতে গিয়ে অনশনে বসেন। তার অভিযোগ, এ সময় ইমনের পরিবারের সদস্যরা তাকে মারধর করেন। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।
মুসকান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেও কোনো ফল হয়নি। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে সমাধান না হলে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
অন্যদিকে ইমনের মা ও পরিবারের সদস্যরা দাবি করেন, ছেলে ও মুসকানের সম্পর্কের বিষয়টি তারা আগে জানতেন না। তাদের ভাষ্য, যদি সত্যিই গোপনে বিয়ে হয়ে থাকে, তাহলে তারা আলাদা কোথাও গিয়ে সংসার করতে পারেন। তবে পারিবারিক বাড়িতে ওই তরুণীকে গ্রহণ করা হবে না।
স্থানীয়দের মতে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত ইমন বাড়িতে ছিলেন না। তিনি শরীয়তপুরে একটি মোবাইল ফোন কোম্পানিতে চাকরি করেন।
এ বিষয়ে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, “৯৯৯-এ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, মুসকানের বিয়ের দাবি এবং উভয় পক্ষের অভিযোগ-দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া বা আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।