বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে মসজিদে নামাজরত ছোট ভাইকে কুপিয়ে হত্যার মামলার প্রধান আসামি হারুন সরদারকে (৫৫) প্রায় এক মাস পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি তাবলিগ জামাতের সঙ্গে আত্মগোপনে ছিলেন। শেষ পর্যন্ত কৌশল অবলম্বন করে নোয়াখালী থেকে তাকে আটক করে পুলিশ।
কাজীরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ২১ জুন দুপুরে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার আন্ধারমানিক গ্রামের একটি মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ছোট ভাই নজরুল সরদারের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান হারুন সরদার। এ সময় তার সহযোগীরাও হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গুরুতর আহত নজরুল সরদারকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মীরগঞ্জ ফেরিঘাট এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী নাজমিন নাহার বাদী হয়ে হারুন সরদারসহ আটজনকে আসামি করে কাজীরহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই হারুন আত্মগোপনে চলে যান।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি তাবলিগ জামাতের একটি দলের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে পুলিশ সদস্যরা ছদ্মবেশে ওই তাবলিগ জামাতের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাতে নোয়াখালীর একটি মসজিদ থেকে হারুন সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কাজীরহাট থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করতে হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”