বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের (বিসিসি) ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নে নগরবাসীর মতামত গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে “নাগরিক ভাবনা” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে নগর ভবনের সভাকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন।
সভায় বক্তারা বলেন, বিসিসি প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোনো মেয়র বা প্রশাসন বাজেট প্রণয়নের আগে সাধারণ নাগরিকদের মতামত নেওয়ার উদ্যোগ নেয়নি। এবারই প্রথম নগরবাসী সরাসরি তাদের প্রত্যাশা, সমস্যা ও পরামর্শ তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।
অংশগ্রহণকারীরা সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানো, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সেবাকে আরও সহজ ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে নগরবাসীর দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
সভায় উপস্থিত ছিলেন বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী, বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মো. লোকমান হাকিম, প্রধান প্রকৌশলী মো. হুমায়ুন কবীর, সচিব রুম্পা শিকদার, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রায়হান উজ জামান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবুল বাশার এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মকসুমুল হাকিম রেজা।
এছাড়া রাজনৈতিক, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান, এ করিম আইডিয়াল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু রেজা মো. নুরুল হক, ড্যাব বরিশাল জেলা সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান, পিপি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দিন পান্না, শেবাচিমের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আজিজ রহিম, সাবেক কাউন্সিলর আলতাফ মাহমুদ শিকদার, মীর জাহিদুল কবির, আ ন ম সাইফুল আহসান আজিম, মো. ইউনূস মিয়া, হুমায়ুন কবির, মাইনুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সালাউদ্দিন মাসুম ও মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল আলম ফরিদ, নাসিমুল কবিরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী। এছাড়াও বিসিসির বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা, পেশাজীবী, বুদ্ধিজীবী ও নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সভায় অংশ নেন।
সভায় সমাপনী বক্তব্যে বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, নগরবাসীর উত্থাপিত মতামত, পরামর্শ ও দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য একটি বাস্তবমুখী, অংশগ্রহণমূলক ও নাগরিকবান্ধব বাজেট প্রণয়ন করা হবে।