ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাসন্ডা নদীর ওপর নির্মিত প্রায় ৩৭ বছরের পুরোনো বেইলি সেতুটি এখন দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের জন্য এক নীরব আতঙ্কের নাম। প্রতিদিন শত শত বাস, ট্রাক, কাভারভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ বহন করতে গিয়ে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে সেতুটি। ভারী যানবাহন উঠলেই কেঁপে ওঠে পুরো সেতু, আর স্টিলের পাটাতনের বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয় আশপাশের এলাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ নিয়মিত ঝালাই ও সংস্কার করলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায় সেতুটি। দীর্ঘদিন ধরে জোড়াতালি দিয়ে সচল রাখা হলেও স্থায়ী সমাধান মিলছে না।
সওজ সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৯ অর্থবছরে বাসন্ডা নদীর ওপর ৩৯৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফুট প্রস্থের এ বেইলি সেতুটি নির্মাণ করা হয়। বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বাগেরহাট, খুলনা, যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল।
প্রায় এক দশক আগে সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন স্থানে স্টিলের পাটাতন ফেটে গেছে, নাট-বল্টু আলগা হয়ে পড়েছে এবং প্রায় ১১৩টি স্থানে মেরামতের চিহ্ন রয়েছে। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন এ সেতু ব্যবহার করছেন চালক, যাত্রী ও সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেতুটি ভেঙে পড়লে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
একাধিক পরিবহনচালক জানান, সেতুর ওপর গাড়ি উঠলেই বিকট শব্দ হয় এবং পুরো সেতু কাঁপতে থাকে। এতে প্রতিবারই দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে পার হতে হয়।
ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান জানান, বাসন্ডা বেইলি সেতুর পরিবর্তে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
এদিকে ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জিবা আমিনা আল গাজী জানিয়েছেন, বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তারা দ্রুত স্থায়ী সমাধানের আশা প্রকাশ করেছেন।
সচেতন মহলের মতে, বছরের পর বছর সংস্কার ও জোড়াতালির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি সচল রাখা হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি আধুনিক স্থায়ী সেতু নির্মাণ এখন সময়ের সবচেয়ে জরুরি দাবি।