


ন্যাশনাল ডেস্ক: দেশের সব মহাসড়কে তিনচাকার যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মাহিন্দ্র ও নসিমনসহ নানা অবৈধ যান। এতে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি। গত চার মাসে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর অংশেই ১৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩১ জন। এর মধ্যে চলতি মাসেই চারটি দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১২ জন।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় দেশের সব আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়কে তিনচাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বাস্তবে সেই নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার অংশে। এখানে অবাধে চলাচল করছে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মাহিন্দ্র ও নসিমনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন।
সড়ক পরিবহন আইনে মহাসড়কে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার এবং আঞ্চলিক সড়কে ৪০ কিলোমিটার গতিসীমা নির্ধারণ করা থাকলেও তা মানছেন না অধিকাংশ চালক। কোনো ধরনের নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই বেপরোয়া গতিতে যান চলাচল করায় প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে অকালে ঝরে যাচ্ছে মূল্যবান প্রাণ।
সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান আরও উদ্বেগজনক। গত ১৮ জানুয়ারি মাদারীপুর সদর উপজেলার ঘটকচর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ইজিবাইককে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই পাঁচ নারীসহ সাতজন নিহত হন। এর এক সপ্তাহ আগে ১৩ জানুয়ারি তাঁতিবাড়ি এলাকায় একটি কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুই নারীসহ ভ্যানের তিন যাত্রী নিহত হন। ওই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করলে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।
একটির পর একটি দুর্ঘটনায় যাত্রী ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়াকাটা থেকে রাজধানী ঢাকার মালিবাগগামী যাত্রী সুব্রত দেবনাথ বলেন, “ঢাকা–বরিশাল মহাসড়ক দুই লেন থেকে ছয় লেনে উন্নীত করা দীর্ঘদিনের দাবি। এটি বাস্তবায়ন হলে দুর্ঘটনার হার অনেকাংশে কমে আসবে। তা না হলে প্রতিনিয়ত মানুষ প্রাণ হারাতেই থাকবে।”
পটুয়াখালীর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “পদ্মাসেতু চালুর পর ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে যানবাহনের চাপ ও দুর্ঘটনা দুটোই বেড়েছে। এখন যাতায়াত করতেই ভয় লাগে। প্রশাসনের উচিত আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।”
পরিবহন চালকরাও দুর্ঘটনার জন্য ছোট ও অবৈধ যানবাহনকে দায়ী করছেন। পরিবহন চালক গিয়াস উদ্দিন জমাদ্দার বলেন, “মহাসড়কে ইজিবাইক, মাহিন্দ্র আর নসিমন চলাচলই দুর্ঘটনার বড় কারণ। এগুলো বন্ধ করা গেলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে যাবে।”
মিজান পরিবহনের চালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা বেশিরভাগ চালকই নিয়ম মেনে গাড়ি চালাই। কিন্তু নতুন ও অনভিজ্ঞ চালক এবং তিনচাকার যানবাহনের কারণেই বেশি দুর্ঘটনা ঘটে।”
এ বিষয়ে মাদারীপুর অঞ্চলের মোস্তফাপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মামুন আল রশিদ জানান, মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধে নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে। যাত্রী ও চালকদের সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে জরিমানাসহ অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
তবে স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি স্থায়ী সমাধান না এলে ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল থামানো কঠিন হয়ে পড়বে।