বরিশালে আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে কলেজ কর্মচারীর মৃত্যু
- প্রকাশের সময়: 03:26:55 am, Wednesday, 7 October 2026
- / 28 Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের ১০ তলা থেকে পড়ে নাজমুল হক রিমন (৩২) নামে এক কলেজ কর্মচারীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে আদালত ভবনের পশ্চিম পাশ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত নাজমুল হক রিমন বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি নগরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিপুর গণপাড়া এলাকার বাসিন্দা এনামুল হকের ছেলে।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় রিমনকে ভবনের ১০ তলা থেকে নিজে পড়ে যেতে দেখা গেছে। এ সময় তাঁর আশপাশে অন্য কারও উপস্থিতি ফুটেজে দেখা যায়নি। আদালতে প্রবেশের সময় এবং ঘটনার আগে-পরে তাঁর সঙ্গে কোনো কাগজপত্র বা ফাইলও দেখা যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার দিন দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত রিমন বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর কী কারণে তিনি আদালত ভবনে গিয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আদালতের দ্বিতীয় তলার হাজতখানায় কর্মরত পুলিশ সদস্য মো. হানিফ জানান, হঠাৎ একটি শব্দ শুনে বাইরে গিয়ে তিনি নিচে একজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় করা একটি মামলার বাদী ছিলেন রিমন। একই থানায় ২০১৫ সালে করা অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগের একটি মামলায় তিনি আসামি ছিলেন বলেও পুলিশ জানিয়েছে। এ ছাড়া পারিবারিক বিষয় নিয়েও তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে একটি মামলা চলমান ছিল বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের হিসাবরক্ষক শেখ ফরিদ আহমেদ জানান, সোমবার (৫ অক্টোবর) কলেজের অডিট সম্পন্ন হয়। অডিটে ক্যাশিয়ার হিসেবে ব্যাংকে ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা জমা দেওয়ার কথা থাকলেও ৩৮ হাজার টাকা জমা পাওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। এ ঘটনায় অডিট কমিটি আপত্তি জানিয়ে রিমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং মামলা করার সুপারিশ করে। তবে তাঁর মৃত্যুর সময় পর্যন্ত কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জানান হিসাবরক্ষক।
রিমনের আদালত ভবনে যাওয়ার সঙ্গে কলেজের হিসাবসংক্রান্ত বিষয়, পারিবারিক বিরোধ বা অন্য কোনো ঘটনার যোগসূত্র ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ বলছে, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মনিরুল ইসলাম।























