নিষেধাজ্ঞার আগে জেলেদের জালে রুপালি ইলিশ, জমজমাট ঘাট-বাজার
- প্রকাশের সময়: 03:58:05 am, Wednesday, 7 October 2026
- / 20 Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা: ভোলার লালমোহনসহ উপকূলীয় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শুরুর আগে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশ। শেষ সময়ে নদীতে ভালো মাছ পাওয়ায় জেলেদের মুখে হাসি ফুটেছে। একই সঙ্গে ইলিশের সরবরাহ বাড়ায় জমে উঠেছে স্থানীয় মাছের ঘাট ও বাজার।
আগামী ৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষায় টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এ সময় ইলিশের প্রজনন নিরাপদ রাখতে দেশের নির্ধারিত নদ-নদী ও মোহনায় ইলিশ আহরণ, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহণ ও মজুত নিষিদ্ধ থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে পরিবারের জন্য ইলিশ কিনে রাখতে ঘাট ও বাজারে ভিড় করছেন ক্রেতারা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে তুলনামূলক ভালো পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়ছে। একের পর এক ইলিশবোঝাই ট্রলার ঘাটে ভিড়ায় হাঁকডাকে মুখর হয়ে উঠছে মাছের আড়ত।
ঘাট ও স্থানীয় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি প্রায় ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। দাম কিছুটা সহনীয় থাকায় অনেকে একসঙ্গে একাধিক ইলিশ কিনে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করছেন।
ক্রেতারা জানান, নিষেধাজ্ঞা শুরু হলে ইলিশের সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তাই শেষ সময়ে তুলনামূলক সহনীয় দামে পছন্দের ইলিশ কিনে রাখছেন তাঁরা।
লালমোহনের নাজিরপুর মৎস্য ঘাটের আড়তদার আব্দুস শহীদ বলেন, নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে ঘাটে ক্রেতাদের চাপ বেড়েছে। নদী থেকেও ভালো মাছ আসছে। সরবরাহ বাড়ায় এবং চাহিদা বেশি থাকায় বেচাকেনা জমে উঠেছে।
জেলেদের মধ্যে শেষ সময়ে ভালো ইলিশ পাওয়ার স্বস্তি থাকলেও সামনে ২২ দিন কর্মহীন থাকার দুশ্চিন্তাও রয়েছে। কয়েকজন জেলে জানান, নিষেধাজ্ঞার আগে ভালো মাছ পাওয়ায় কিছু আয় হয়েছে, যা দিয়ে ধারদেনা পরিশোধে কিছুটা সহায়তা হবে। তবে নিষেধাজ্ঞার সময় সরকারি বরাদ্দের চাল ও অন্যান্য সহায়তা দ্রুত ও সঠিকভাবে না পেলে পরিবার চালাতে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হবে।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ বলেন, মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতেই এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইলিশ অবাধে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়বে।
তিনি আরও জানান, নিষেধাজ্ঞা সফল করতে নদী ও বাজারে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।























