
ঈদুল আজহা সামনে রেখে চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশার মধ্যে দিন পার করছেন ফরচুন গ্রুপের হাজার হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। চার থেকে পাঁচ মাস ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ থাকার অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির অনেক কর্মী। এখনো মেলেনি ঈদের বোনাসও।
জানা গেছে, ২০১২ সালে ৪৭২ জন কর্মী নিয়ে বরিশালে যাত্রা শুরু করে ফরচুন সুজ লিমিটেড। ১৪ বছরের ব্যবধানে এটি এখন বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ফরচুন গ্রুপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে বরিশাল ও ঢাকায় গ্রুপটির ছয়টি প্রতিষ্ঠানে আট হাজারের বেশি মানুষ কর্মরত রয়েছেন।
বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান। বরিশালের বিসিক শিল্পনগরীতে গ্রুপটির তিনটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুরে রয়েছে আরও তিনটি কারখানা।
ফরচুন গ্রুপের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ফরচুন সুজ, প্রিমিয়ার ফুটওয়্যার, ইউনি ওয়ার্ল্ড ফুটওয়্যার টেকনোলজি, সিন ইন ফুটওয়্যার টেকনোলজি, এমজে ইন্ডাস্ট্রিজ ও পশ ফুটওয়্যার।
প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত জুতা ভারত, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজার মিলিয়ে গ্রুপটির বার্ষিক লেনদেনের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকারও বেশি বলে জানা গেছে। ২০১৫ সালে কোম্পানিটি দেশের শেয়ারবাজারেও তালিকাভুক্ত হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী অভিযোগ করেন, পাঁচ মাস ধরে অফিসাররা এবং চার মাস ধরে সুপারভাইজাররা কোনো বেতন-ভাতা পাননি। এছাড়া সাধারণ শ্রমিকদেরও এক মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। বেতন বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে তাদের। চাকরি হারানোর ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে প্রতিবাদও করতে পারছেন না বলে জানান তারা।
এদিকে কোম্পানির হিসাবরক্ষক মো. জামাল দাবি করেছেন, ফরচুনসহ তিনটি কোম্পানির কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দীর্ঘমেয়াদি বকেয়া নেই। চলতি মাসের বেতন ও ঈদ বোনাস শনিবার পরিশোধ করা হবে বলে তিনি জানান।
ফরচুন গ্রুপের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, “গত বছরের আগস্টের পর থেকে কোম্পানির রপ্তানি কার্যক্রমে সমস্যা তৈরি হয়েছে। ভারতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার চালান আটকে আছে। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে উৎপাদনও ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য কিছু আর্থিক সংকট তৈরি হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে এবং দু-এক দিনের মধ্যেই ঈদের বোনাসসহ সব পরিশোধ করা হবে।