বরিশালে ‘নিউরন’ নামেই একাধিক নার্সিং কোচিং, শিক্ষার্থী বিভ্রান্তির অভিযোগ
- প্রকাশের সময়: 04:08:39 pm, Thursday, 24 September 2026
- / 51 Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল নগরীতে ‘নিউরন’ নাম ব্যবহার করে একাধিক নার্সিং ভর্তি কোচিং পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। একই বা কাছাকাছি নাম ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে ভর্তি করানো এবং পরে অর্থ আদায়ের অভিযোগও করেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী।
সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নগরীর বটতলা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। তবে গত কয়েক বছরে একই নামের সঙ্গে ‘কেয়ার’, ‘স্পেশাল’সহ বিভিন্ন শব্দ যুক্ত করে একাধিক কোচিং প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এতে দূর-দূরান্ত থেকে ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থীরা প্রকৃত প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করতে গিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এমনই একটি ঘটনার কথা জানিয়েছেন স্বরূপকাঠি থেকে আসা শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ তহুরা। তার দাবি, বরিশালের বটতলা এলাকায় মূল ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিংয়ে’ ভর্তি হওয়ার উদ্দেশ্যে এসে ভুলবশত ‘নিউরন কেয়ার’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে যান। সেখানে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক নোমান তাকে ভর্তি বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য দিয়ে ৫ হাজার টাকা নেন।
তহুরার অভিযোগ, পরে তিনি বুঝতে পারেন, যে প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছেন সেটি তার কাঙ্ক্ষিত কোচিং প্রতিষ্ঠান নয়। এরপর টাকা ফেরত চাইলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
শুধু তহুরা নন, নামের মিলের কারণে আরও অনেক শিক্ষার্থী বিভ্রান্ত হয়েছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তাদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণায় সাফল্যের তথ্য ও আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ভর্তি করানো হলেও কিছু প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
মূল ‘নিউরন’ কর্তৃপক্ষের অভিযোগ
‘নিউরন’ নাম ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে প্রশাসনের নজরদারি এবং বৈধ কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং’ কর্তৃপক্ষ।
প্রতিষ্ঠানটির বরিশাল বটতলা শাখার পরিচালক আনিসুজ্জামান রাইয়ান বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন নামে কোচিং পরিচালনার কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে।
রাইয়ানের দাবি, গত তিন বছরে তাদের বরিশাল শাখা থেকে নার্সিং ভর্তি পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী সাফল্য পেয়েছেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রথম বছরে ১৪০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ জন, দ্বিতীয় বছরে ২৫০ জনের মধ্যে ৫৯ জন এবং পরবর্তী বছরে ৮১ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, তাদের প্রতিষ্ঠান দেশব্যাপী ভালো ফলাফল করে আসছে। একই নাম ব্যবহারকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কারণে মূল ‘নিউরন’ নামের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বৈধ কাগজপত্র ও পরিচালন কাঠামো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান রাইয়ান।
অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য
‘নিউরন কেয়ার নার্সিং ভর্তি কোচিং’-এর পরিচালক নোমানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি এবং ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
‘নিউরন স্পেশাল নার্সিং ভর্তি কোচিং’-এর পরিচালক তিমন মজুমদার বলেন, তাদের প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। তবে পরে তা দেখাতে পারবেন বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে ‘নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং অফিস’-এর পরিচালক ফারজানা আক্তার বন্যা বলেন, সিটি করপোরেশনে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে। একই নামে আগে প্রতিষ্ঠান থাকায় এখনো অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।
ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া পরিচালনায় ব্যবস্থা
বরিশাল সিটি করপোরেশনের ট্রেড লাইসেন্স শাখার ইন্সপেক্টর আনিসুর রহমান বলেন, সব প্রতিষ্ঠানকে ফোন করে ট্রেড লাইসেন্স নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নজরদারি চান শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, নার্সিং ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বরিশাল নগরীতে বিভিন্ন কোচিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বাড়লেও প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয়, অনুমোদন, সাফল্যের তথ্য এবং ভর্তি-সংক্রান্ত শর্ত যাচাইয়ের সুযোগ অনেক ক্ষেত্রেই সীমিত।
তাদের মতে, দূরবর্তী এলাকা থেকে আসা শিক্ষার্থীরা যাতে প্রতিষ্ঠানের নামের মিল বা প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।























