২১৬ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ৮০ হাজার
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি কেন্দ্র কমানোর উদ্যোগ
- প্রকাশের সময়: 10:59:03 pm, Saturday, 10 October 2026
- / 35 Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্র থাকায় পরিচালন ব্যয় ও প্রশাসনিক চাপ বাড়ছে বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের। বোর্ডের অধীন বিভাগের ছয় জেলায় বর্তমানে ২১৬টি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। অথচ ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮০ হাজার ৪৫৮ জন পরীক্ষার্থীর জন্য প্রায় ১০০টি কেন্দ্রই যথেষ্ট বলে মনে করছেন বোর্ড-সংশ্লিষ্টরা। এ পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্র বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বোর্ড-সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাজনৈতিক তদবিরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি পরীক্ষাকেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। এসব কেন্দ্রের কোনো কোনোটিতে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা খুবই কম। ফলে পরীক্ষার্থী কম হলেও কেন্দ্র পরিচালনা, তদারকি, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ মোতায়েনসহ বিভিন্ন খাতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভাগের ছয় জেলায় এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা ২১৬টি। এর মধ্যে বরিশালে ৭০টি, ভোলায় ৩২টি, বরগুনায় ২৪টি, পটুয়াখালীতে ৪২টি, পিরোজপুরে ২৮টি এবং ঝালকাঠিতে ২০টি কেন্দ্র রয়েছে।
বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের মতে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, ভৌগোলিক দূরত্ব ও যাতায়াতের সুবিধা বিবেচনায় কেন্দ্রের সংখ্যা পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের উজিরপুর উপজেলায়ই রয়েছে নয়টি পরীক্ষাকেন্দ্র। পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় সেখানে কমসংখ্যক কেন্দ্রেও পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রভিত্তিক তথ্যেও কম পরীক্ষার্থীর চিত্র উঠে এসেছে। কোনো কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল একশর নিচে। উজিরপুরের কারফা পাবলিক একাডেমি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিল ৬৩ জন। মুলাদীর বাটামারা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছে ৮৯ জন। এ ছাড়া কোনো কোনো কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৫৬ জন।
বোর্ড-সংশ্লিষ্টদের হিসাব অনুযায়ী, একটি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিচালনায় পরীক্ষা চলাকালে বিভিন্ন খাতে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা ব্যয় হয়। ফলে পরীক্ষার্থী কম থাকা কেন্দ্রগুলো পরিচালনায় ব্যয় ও জনবল ব্যবস্থাপনার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সম্প্রতি আন্তঃবোর্ড সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা, ভৌগোলিক দূরত্ব ও কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় কোন কেন্দ্র বহাল রাখা হবে এবং কোনগুলো বাতিল করা যেতে পারে, সে বিষয়ে মতামত চেয়ে বরিশাল জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, “আমাদের যে সংখ্যক পরীক্ষার্থী অংশ নেয়, তাতে ১০০ কেন্দ্রই যথেষ্ট। তারপরও চাহিদার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় কেন্দ্রগুলো বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিধি অনুযায়ী এসব কেন্দ্র বাতিল করা হবে।”
কেন্দ্র পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দূরত্ব, পরীক্ষার পরিবেশ ও কেন্দ্রের সক্ষমতা কীভাবে বিবেচনা করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
























