বরিশালে মাদক আসরে ডিএনসির অভিযান, পুলিশ সদস্যসহ আটক ৪
- প্রকাশের সময়: 04:12:05 pm, Thursday, 8 October 2026
- / 119 Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামের একটি টিনশেড বাসায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে এক পুলিশ সদস্যসহ চারজনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারীও রয়েছেন।
ডিএনসি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার শেষ রাতে পাঁচগাঁও গ্রামের একটি বাসায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল। অভিযানের সময় বাসাটি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয় এবং ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়।
ডিএনসির দাবি, আহ্বানে সাড়া না দিয়ে ভেতরে থাকা কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে মিরাজুল ইসলাম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানায় কর্মরত এএসআই দেলোয়ার হোসেন (৩৮), নাহিদ হাসান (২৬) এবং ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০) নামে এক নারীকে আটক করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই বাসা থেকে বড় ধরনের মাদকের চালান উদ্ধার না হলেও ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ডিএনসির পরিদর্শক জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালানোর সময় বাসার ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের আত্মসমর্পণের জন্য আহ্বান জানানো হয়। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেন বাসার টিনের অংশ ভেঙে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ডিএনসির সদস্যদের সঙ্গে তার ধস্তাধস্তি হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্রের দাবি, মিরাজুল ইসলামের কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় পদ-পদবি না থাকলেও তিনি নিজেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা হিসেবে পরিচয় দেন। স্থানীয়দের কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতাসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, মিরাজুল ইসলামের সঙ্গে পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেনের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল এবং তিনি প্রায়ই ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজনকে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ডিএনসি সূত্রে আরও জানা গেছে, আটক চারজনের মধ্যে পুলিশ সদস্য দেলোয়ার হোসেনকে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে মিরাজুল ইসলামসহ অপর তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে ডিএনসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক ঘটনাস্থলে এসেছিলেন এবং পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।























