পাথরঘাটায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী, ২৯ চিকিৎসকের পদে কর্মরত মাত্র ৪ জন
- প্রকাশের সময়: 11:20:01 pm, Saturday, 10 October 2026
- / 25 Time View
নিজস্ব প্রতিবেদক: আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বরগুনার পাথরঘাটায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীর চাপ বাড়ায় দেখা দিয়েছে শয্যাসংকট। ফলে অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি হাসপাতালের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও চিকিৎসকসংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
ডেঙ্গুর পাশাপাশি নিউমোনিয়া, কাশি ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। প্রতিদিন এসব রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তবে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় সেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। একই চিকিৎসককে অনেক সময় বহির্বিভাগ ও অন্তর্বিভাগের রোগীদের সামলাতে হচ্ছে।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত হাসপাতালে ৩৭০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে রোগীর সংখ্যা বেশি বেড়েছে। শনিবারও হাসপাতালে ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে কোনো রোগীর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসা নেওয়া কবির জানান, গত বুধবার তিনি ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হন। ভর্তির সময় তাঁর রক্তে প্লাটিলেটের সংখ্যা ছিল ৫০ হাজার। তিন দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর তা বেড়ে ১ লাখ ৫ হাজার হয়েছে। তবে জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসকের সেবা পেতে কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হয় বলে জানান তিনি।
চিকিৎসা নিতে আসা লিমন বলেন, চিকিৎসা নিতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগীকে নিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা কষ্টকর। এ ছাড়া হাসপাতালের মেঝেতে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে থাকতে হচ্ছে রোগীদের। পরিস্থিতির উন্নয়নে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেহেদী বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকের ২৯টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র চারজন। এ কারণে রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চিকিৎসক ছাড়াও পরিচ্ছন্নতাকর্মী, টেকনোলজিস্ট ও টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদে জনবলসংকট রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসকসংকট নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

























