
রুপন কর অজিত: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বেপরোয়া হয়ে উঠে ছিনতাই,চাঁদাবাজসহ বিভিন্ন অপরাধীরা। তাই এসব অপরাধ ঠেকাতে ইতিমধ্যেই বেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)।
সূত্র বলছে, বিএমপির দৃশ্যমানভাবে নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করেছে অপরাধ চিত্র। চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং কালচার ও মাদকসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে প্রশাসন। বিশেষ করে ঈদের আগে পশুর হাটের নিরাপত্তা, জাল নোটের কারবারি রোধ এবং ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢেলে সাজানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে দীর্ঘদিনের আতঙ্ক কেটে গিয়ে ফিরতে শুরু করেছে স্বস্তি ও নিরাপত্তা।
বিশেষ করে যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে বিএমপি’র সাঁড়াশি অভিযান সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে তরুণ প্রজন্মকে সুরক্ষায় আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে প্রশাসন। একই সাথে রাত্রিকালীন টহল জোরদার এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর ফলে চুরি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
নগরীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিএমপি বেশ কিছু কার্যকর ও আধুনিক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে। অপরাধীদের অবস্থান শনাক্ত করতে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রুখতে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও অলিগলিতে ২৪ ঘণ্টা ‘স্মার্ট পেট্রোলিং’ বা পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে মাদক ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিয়মিত চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে পুলিশ। প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘বিট পুলিশিং’ কার্যক্রমের মাধ্যমে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আইনি সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে অপরাধ দমনে বাড়ানো হচ্ছে সামাজিক সচেতনতা। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বিএমপির বিশেষ ‘কুইক রেসপন্স টিম’ সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকছে, যা নগরবাসীর নিরাপত্তা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
এছাড়া বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিগত দিনের চেয়ে নগরীতে ফিরেছে শৃঙ্খলা, কমেছে যানজট।
নগরীর পরিস্থিতি পরিবর্তনের বিষয়ে কথা হয় সদর রোডের ব্যবসায়ী বিষু ঘোষের সাথে। তিনি বলেন,”আগে রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় একটা আতঙ্ক কাজ করত। ছিনতাই বা চুরির ভয় থাকত। কিন্তু ইদানীং পুলিশের নিয়মিত টহল ও তৎপরতা চোখের পড়ার মতো। এখন অনেক নিশ্চিন্তে ব্যবসা করতে পারছি।”
কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা ও গৃহিণী নাসরিন সুলতানা জানান, ”এলাকার মোড়ে মোড়ে আগে বখাটেদের যে আড্ডা বা মাদকের আনাগোনা ছিল, পুলিশের কঠোর অবস্থানের কারণে তা এখন আর নেই। সামনে কোরবানি ঈদ, এই সময়ে সাধারণত অজ্ঞানপার্টি বা ছিনতাইকারীদের উপদ্রব বাড়ে, কিন্তু এবার পুলিশের আগাম প্রস্তুতি দেখে আমরা বেশ আশ্বস্ত। প্রশাসনের প্রতি আমাদের আস্থা ও ভরসা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।”
বরিশালের সুশীল সমাজের প্রতিনিধি আতিকুর রহমান বলেন,”একটি সুস্থ ও নিরাপদ নগরী গড়তে পুলিশের এই সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত ইতিবাচক। মাদকের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তা যুবসমাজকে রক্ষা করতে অত্যন্ত জরুরি ছিল। সামনে বড় উৎসব ঈদুল আজহা, এই সময়ে পশুর হাটগুলোর নিরাপত্তা এবং জাল টাকা শনাক্তকরণে পুলিশ যে তৎপরতা দেখাচ্ছে তা প্রশংসনীয়। তবে পুলিশের এই অভিযানের পাশাপাশি আমাদের অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। বিএমপি যেভাবে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিচ্ছে, তা সত্যিই ইতিবাচক।”
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আসন্ন ঈদের প্রস্তুতি নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার(সদর দপ্তর) সুশান্ত সরকার বলেন, ”বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মান্যবর পুলিশ কমিশনার স্যারের নির্দেশে আমরা বরিশাল নগরীকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত এবং নাগরিকদের জন্য একটি নিরাপদ বাসযোগ্য স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। চুরি, ছিনতাই ও মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। বিশেষ করে আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুর হাটগুলোর নিরাপত্তা, জাল নোট প্রতিরোধ এবং ঈদ উদযাপন শেষে মানুষের নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করতে আমাদের বিশেষ টিম মাঠে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা চাই পুলিশ হবে জনগণের প্রকৃত বন্ধু। সাধারণ মানুষের এই আস্থা ও ভরসা ধরে রাখতে বিএমপি’র প্রতিটি সদস্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।”
নবাগত পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এই কঠোর ও মানবিক ভূমিকার কারণে বরিশালে অপরাধের গ্রাফ যেমন নিম্নমুখী, ঠিক তেমনি পুলিশ ও জনগণের মধ্যকার দূরত্ব ঘুচে তৈরি হয়েছে এক অনন্য বিশ্বাসের সম্পর্ক।