বরিশালে তিন বছরেও চালু হয়নি কোটি টাকার আইটি ট্রেনিং সেন্টার
- প্রকাশের সময়: 08:34:55 pm, Wednesday, 7 January 2026
- / 620 Time View
নতুন প্রজন্মের আইটি উদ্যোক্তা ও শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত
বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ এলাকায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা
আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারটি দীর্ঘ তিন বছরেও চালু হয়নি।
সরকারের নিজস্ব অর্থে ডিজিটাল সংযোগ (ইউডিসি) প্রকল্পের আওতায় বরিশাল জেলায় প্রকল্পটির কাজ
২০১৭ সালে শুরু হয়। ২০২২ সালে উদ্বোধন করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেন্টারটি অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে এবং ভেতরে থাকা বিভিন্ন সরঞ্জামও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে।
প্রকল্পের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য
প্রথম পর্যায়ে দুই হাজার দক্ষ আইটি উদ্যোক্তা তৈরির কথা ছিল। প্রকল্পে গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং, ২-ডি ও ৩-ডি অ্যানিমেশন, জাভা প্রোগ্রামিং, সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন, ই-কমার্স কন্ডাক্টিংসহ প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রাখার কথা ছিল।
ট্রেনিং শেষ করে মেধার ভিত্তিতে দেশের বাইরে যাওয়ার সুযোগও তৈরি হতো। কিন্তু কেন্দ্রটি চালু না হওয়ায় আশা ভঙ্গ হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
বিডি নেটওয়ার্কের সিইও ইঞ্জিনিয়ার জিহাদ রানা বলেন, “এই অঞ্চলের মানুষের অন্যতম ভরসার জায়গা ছিল এটি।
চালু হলে তরুণ উদ্যোক্তা ও শিক্ষিত জনবলকে প্রশিক্ষণের ভালো সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু এখন আমরা তার কোনো ফিডব্যাক পাইনি।
সরকারকে নতুন উদ্যোগ নিয়ে এটি চালু করার দাবি জানাই।”
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন বলেন, “বর্তমান যুগে আইটি ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। ৩৪৫টি কলেজের শিক্ষার্থীদের আইটিতে দক্ষ করে গড়ে তোলা প্রয়োজন। সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।”
জেলা প্রশাসনের দৃষ্টিভঙ্গি
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং জানান, “সামগ্রিক কাজ শেষ হতে আরও কিছুদিন লাগতে পারে।
আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। বরিশাল অঞ্চলে আইসিটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”
প্রকল্পে সকল নির্মাণ কার্যক্রম শেষ হলেও কর্মকর্তারা অফিস শুরু করেননি। কর্মীরা জানান, ল্যাবসহ সব সরঞ্জাম প্রস্তুত,
কিন্তু প্রশাসনিক বাধার কারণে কার্যক্রম শুরু হয়নি। ইতিমধ্যে কিছু সরঞ্জাম টুকটাক নষ্টও হয়ে গেছে।
প্রতিবছর বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দুই লাখ শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করেন।
প্রায় ৫০ হাজার শিক্ষার্থী মাদরাসা থেকে পাস করেন। তাদের অনেকেই প্রযুক্তির বাইরে থেকে যান।
এই কেন্দ্র চালু হলে তাঁদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি হতো।























