ভোররাতে আটক, থানায় নেওয়ার পর মুক্তি—ভাটিখানায় জিতুকে ঘিরে ফের মাদক কারবারের অভিযোগ - বরিশাল সংবাদ
- প্রকাশের সময়: 09:26:22 am, Saturday, 7 November 2026
- / 479 Time View

নিজেস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: মাদকবিরোধী অভিযানে পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন জিতু। নেওয়া হয়েছিল কাউনিয়া থানায়। কিন্তু কিছু সময় পরই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ভাটিখানা এলাকায় আবারও মাদক কারবারে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বরিশাল নগরীর ভাটিখানা কাজীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জিতুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ করে আসছেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান চলাকালে আত্মগোপনে থাকলেও পরে সহযোগীদের মাধ্যমে এলাকায় মাদক কেনাবেচা চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে ভোররাতে কাউনিয়া থানা পুলিশ জিতুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। তবে আটকের সময় তাঁর কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার না হওয়ায় পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর প্রশ্ন, মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগ ও একাধিক মামলার তথ্য সামনে থাকার পরও তাঁকে আটকের পর কী ধরনের যাচাই-বাছাই করা হয়েছিল? তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হয়েছিল কি না? তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণ কী ছিল? এমনকি তাকে ডোপ টেষ্ট ও করানো হয় নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাটিখানা এলাকায় ধারাবাহিক মাদকবিরোধী অভিযানে বেশ কয়েকজন আটক হলেও জিতুকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের সুরাহা হয়নি। বরং বর্তমানে তিনি নিজে সরাসরি মাদক কেনাবেচায় অংশ না নিয়ে সহযোগীদের মাধ্যমে কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, পুলিশের অভিযান চললে কিছুদিনের জন্য মাদক কেনাবেচা কমে আসে। কিন্তু অভিযান শেষ হওয়ার পর আবারও একই এলাকায় তৎপরতা শুরু হয়। তাঁদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু খুচরা বিক্রেতাদের আটক করলেই হবে না; মাদকের উৎস, সরবরাহকারী, অর্থের জোগানদাতা এবং নেপথ্যের সহযোগীদেরও শনাক্ত করতে হবে।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জিতুকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা মাদক কারবারের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের প্রশ্ন, অভিযান ও আটকের পরও যদি একই এলাকায় মাদক কারবারের অভিযোগ ফিরে আসে, তাহলে এর স্থায়ী প্রতিকার কোথায়?
তাঁদের দাবি, ভাটিখানায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।




















