
শনিবার (১১ জুলাই) র্যাব-৮ ও র্যাব-১-এর যৌথ অভিযানে ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃতদের ডিএমপির বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ৮টার দিকে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বরিশালের কাজিরহাট থানার ভাষানচর ইউনিয়নের ছৈয়মতক্তা এলাকায় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মোস্তফা কামালের ওপর পূর্বপরিকল্পিত হামলা চালানো হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, শাহাবুদ্দিন হাওলাদার, আল আবিরসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার পথরোধ করে। একপর্যায়ে শাহাবুদ্দিন তাকে ধরে রেখে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে হামলাকারীরা হাতুড়ি, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা আহত মোস্তফা কামালকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতেই তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে কাজিরহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায় এবং ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছিল। দীর্ঘদিনের ছায়া তদন্ত, গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
এরপর র্যাব-৮, সদর কোম্পানি, বরিশাল এবং র্যাব-১, সিপিসি-২, উত্তরা, ঢাকার যৌথ অভিযানে উত্তরার সেক্টর-১২ ও সেক্টর-১৩ এলাকা থেকে শাহাবুদ্দিন হাওলাদার ও আল আবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।