৭৬ শয্যার শিশু বিভাগে রোগী সাড়ে ৪০০
বরিশাল অঞ্চলে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ
- প্রকাশের সময়: 02:19:47 am, Friday, 16 October 2026
- / 29 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল: বরিশাল অঞ্চলে হাম ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে দুই রোগের উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। বিশেষ করে শিশুদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতালটির ৭৬ শয্যার শিশু বিভাগে বৃহস্পতিবার রোগী ছিল প্রায় ৪৫০ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল অঞ্চলের ৪২টি উপজেলায় হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া শিশুর সংখ্যা ২৪ হাজার ৪১৫। তাদের মধ্যে ৭৪৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে ২৩ হাজার ৩৯০ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছিল তিন শিশুর শরীরে। অর্থাৎ, হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত্যু হওয়া সব শিশুর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিতভাবে হাম বলে উল্লেখ করা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গুতেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। বরিশাল অঞ্চলের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ পর্যন্ত ১৪ হাজার ৭৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৪ হাজার ৯৬ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। ডেঙ্গুতে মৃতদের মধ্যে ২২ জন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন।
৭৬ শয্যার শিশু বিভাগে রোগী প্রায় ৪৫০
রোগীর চাপে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। হাসপাতালটির শিশু বিভাগে শয্যার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী থাকায় চিকিৎসা ও পরিচর্যায় বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে রোগী ও স্বজনদের ভিড় এবং অসুস্থ শিশুদের কান্নায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে বলে বর্ণনা পাওয়া গেছে।
এক হাজার শয্যার এ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বিপুলসংখ্যক রোগীর তুলনায় জনবল ও চিকিৎসাসুবিধা অপর্যাপ্ত হওয়ায় সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
মশক নিধনে নগরীতে কার্যক্রম, অন্য এলাকায় দুর্বলতার অভিযোগ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে বরিশাল সিটি করপোরেশন নতুন ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রেয়ার সংগ্রহ করে নগরজুড়ে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করেছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে বরিশাল বিভাগের ৩৭৪টি ইউনিয়ন পরিষদ ও ২৫টি পৌর এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম এখনো যথেষ্ট জোরালো নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম বাড়ানো এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত মশক নিধনের পাশাপাশি জমে থাকা পানি অপসারণ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ প্রয়োজন।
হাম ও ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনসচেতনতা, পরিচ্ছন্নতা এবং রোগের বিস্তার পর্যবেক্ষণে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে।
























