রাসেল,উজিরপুর প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ একটি বাঁশের সাঁকো লাল ফিতা কেটে উদ্বোধন করাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাঁকোটি উদ্বোধন করেছেন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে ওই বাঁশের সাঁকোটি উদ্বোধন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উজিরপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি খালের ওপর দীর্ঘদিন ধরে কোনো সেতু ছিল না। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হতো।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর প্রয়োজন থাকলেও তা নির্মাণ না হওয়ায় এলাকাবাসী নিজেরাই অর্থ সংগ্রহ করে প্রায় ২০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন।
শুক্রবার সকালে সাঁকোটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার আয়োজন করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত হন উজিরপুর পৌর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে তিনি লাল ফিতা কেটে সাঁকোটির উদ্বোধন করেন।
সাঁকো উদ্বোধনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করেন নেটিজেনরা। কেউ কেউ ফিতা কেটে বাঁশের সাঁকো উদ্বোধনের বিষয়টি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন। আবার অনেকে এটিকে স্থানীয় মানুষের উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন।
সমালোচকদের কেউ কেউ রাজনৈতিক প্রচারের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তবে স্থানীয়দের একটি অংশের মতে, উদ্বোধনের ধরন নিয়ে বিতর্ক থাকলেও সাঁকোটি নির্মাণের ফলে দীর্ঘদিনের যাতায়াতের সমস্যা কিছুটা হলেও কমেছে।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার বিষয়ে মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে খালের ওপর সেতু না থাকায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় এলাকাবাসী নিজেদের অর্থে বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন।
তিনি বলেন, এলাকাবাসীর এই উদ্যোগকে সম্মান জানাতেই তিনি ফিতা কেটে সাঁকোটির উদ্বোধন করেছেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে সমালোচনা ও ট্রোল করা হচ্ছে, তা তিনি ষড়যন্ত্র ও নোংরামি বলে মনে করেন।
শহীদুল ইসলাম খান আরও দাবি করেন, তার নিজের দলের কিছু কর্মীও এ বিষয়ে উসকানি দিচ্ছেন। তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন বলেও জানান।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে খালের ওপর স্থায়ী একটি সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ স্থায়ীভাবে দূর হবে।
https://slotbet.online/