বরিশাল নগরীর কাউনিয়া মহাশ্মশানে (ভূত চতুর্দশী তিথিতে) উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ
শ্মশান-দীপাবলি উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে অংশ নেবেন লক্ষাধিক মানুষ; যোগাযোগ ও নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।
ঐতিহ্য অনুসারে কলকাতা/ভারতের ‘দীপাবলি’র আগে ভূত-চতুর্দশীর দিনে এখানে পরিবার-পরিজন প্রিয়জনের সমাধির পাশে মোমবাতি ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে আত্মার শান্তি কামনা করেন। সঙ্গে সমাধিসৌন্দর্য বৃদ্ধি ও প্রিয় খাদ্যাদি উৎসর্গের রেওয়াজ পালন করা হয়। স্থানীয় মহাশ্মশান রক্ষা কমিটি বলেছে—স্বজন না থাকা প্রায় ৮০০ মঠে কমিটির পক্ষ থেকে আলোকসজ্জা ও মোমবাতি জ্বালানো হবে। 2কাউনিয়া মহাশ্মশানটি প্রায় ৫ একর ৯৬ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এবং এখানে পুরনো-নতুন মিলিয়ে প্রায় ৬১ হাজারেরও বেশি সমাধি আছে—যার ফলে এ উৎসবকে উপমহাদেশের বৃহত্তম শ্মশান-দীপাবলি হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমও বারবার এই মাপের উল্লেখ করেছে। 3
উৎসব নির্বিঘ্নভাবে আয়োজন নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শশ্মান রক্ষা কমিটি যৌথভাবে নিরাপত্তা বন্দোবস্ত করেছে; শশ্মান এলাকায় সিসি টিভি ও স্বেচ্ছাসেবী দল মোতায়েন করা হয়েছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানাযায়— শশ্মান এলাকায় পর্যপ্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
স্থানীয়রা বলছেন—বরিশাল মহাশ্মশানে ১৯৩০-এর মতো বহু বছর ধরে শ্মশান-দীপাবলি পালিত হয়ে আসছে; প্রতিবছর দেশে-বিদেশ থেকে বহু লোক এই ঐতিহ্যে অংশ নেন। বিগত প্রতিবেদনে লক্ষ করা যায়—শেষ কয়েক বছরে এই উৎসবে ১০-৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ আগমন করেছে, এবং উৎসবের কভারেজ দেশব্যাপী হয়েছে।