
বরিশাল নগরীর কাউনিয়া মহাশ্মশানে আগামী ১৯ অক্টোবর ভূত চতুর্দশী তিথিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ শ্মশান-দীপাবলি উৎসব। এদিনে লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন ও মহাশ্মশান রক্ষা কমিটি।
ঐতিহ্য অনুযায়ী, ভারতের ‘দীপাবলি’র আগের দিন ভূত চতুর্দশীতে স্বজনরা প্রয়াত আত্মীয়দের সমাধিস্থলে মোমবাতি ও প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে আত্মার শান্তি কামনা করেন। পাশাপাশি প্রয়াতদের প্রিয় খাবার উৎসর্গ ও সমাধির সৌন্দর্যবর্ধনের রেওয়াজও রয়েছে।
স্থানীয় মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির সভাপতি জানান, “যেসব সমাধির স্বজন আর জীবিত নেই—সেসব প্রায় ৮০০ মঠে কমিটির পক্ষ থেকে আলোকসজ্জা ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হবে।”
প্রায় ৫ একর ৯৬ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠিত কাউনিয়া মহাশ্মশানে বর্তমানে প্রায় ৬১ হাজারেরও বেশি সমাধি রয়েছে। এই বিশাল পরিসরের কারণে বরিশালের মহাশ্মশান দীপাবলিকে উপমহাদেশের বৃহত্তম শ্মশান উৎসব হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গণমাধ্যমেও এ উৎসবের পরিসর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।
উৎসব নির্বিঘ্নভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবং মহাশ্মশান রক্ষা কমিটি যৌথভাবে নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছে। পুরো এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, স্বেচ্ছাসেবী দল মোতায়েন ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কাউনিয়া থানার ওসি মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “আগামী ১৯ অক্টোবরের শ্মশান দীপাবলি উপলক্ষে বরিশাল মেট্রোপলিটন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন থাকবে। উৎসবের একদিন আগে থেকেই শ্মশান এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীের টহল ও নজরদারি শুরু হবে।”
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, ১৯৩০-এর দশক থেকে এই শ্মশান-দীপাবলি পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছর দেশ-বিদেশ থেকে বহু মানুষ বরিশালে এসে এই ঐতিহ্যবাহী উৎসবে অংশ নেন। বিগত বছরগুলিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ৭০ হাজারেরও বেশি ছাড়িয়েছে।