বরিশালের নবনিযুক্ত জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মনিরুজ্জামানের অপসারণ দাবিতে তাঁর কার্যালয়ের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেছেন একদল শিক্ষার্থী। রোববার এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুবিধাভোগী ছিলেন এবং তাই তাঁকে সিভিল সার্জনের দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না।
জানা গেছে, ঘটনার সময় ডা. মনিরুজ্জামান তাঁর দপ্তরে উপস্থিত ছিলেন না। আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন ছাত্র অধিকার পরিষদের বরিশাল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, ডা. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিতর্কিত অভিযোগ রয়েছে। তাই বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে তাঁকে বহাল রাখা উচিত নয়। তারা দ্রুত একজন বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান।
আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া সাব্বির হোসেন বলেন, “তাঁর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাঁকে বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা চাই, একজন সৎ ও বিতর্কমুক্ত কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক।”
বিএম কলেজের শিক্ষার্থী লাবণ্য আক্তার বলেন, “বরিশালের মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রাখে। তাই বিতর্কিত কর্মকর্তাকে অপসারণ করে জনস্বার্থে নতুন সিভিল সার্জন নিয়োগ দিতে হবে।”
এর আগে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক হিসেবে ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়ার পরও ড্যাবের একাংশ তাঁর দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দিয়েছিল বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ডা. মো. মনিরুজ্জামানকে বরিশাল জেলার সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন করা হয়।
২০২২ সাল থেকে তিনি গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাঁকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রে সংযুক্ত করা হয়।
নিয়োগের পর তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ আমলে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং তৎকালীন সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মতো অভিযোগ সামনে আসে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনি স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গৌরনদীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবেই স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়েছে এবং আনুষ্ঠানিক সৌজন্য হিসেবে ফুল দিয়েছেন। এটি ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার তিনি বরিশালে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। বিদায়ী সিভিল সার্জন রোববার দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা থাকলেও ছুটিতে ঢাকায় চলে যাওয়ায় আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব বুঝে নিতে পারেননি।